মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে যাচ্ছে গ্রিস। প্রথমবারের মতো কোনো গ্রিক বিজ্ঞানী ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ডক্টর আদ্রিয়ানস গোলেমিস নামক এই বিজ্ঞানী ইউরোপের অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ায় ২২,০০০-এরও বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে কোনো গ্রিক নাগরিকের সরাসরি মহাকাশ মিশনে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করল।
ডক্টর গোলেমিস বর্তমানে জার্মানির কোলন শহরে অবস্থিত ‘ইউরোপীয় অ্যাস্ট্রোনাট সেন্টারে’ তাঁর কঠোর প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে মানববাহী মহাকাশ অভিযানে গ্রিসের ভূমিকা সীমিত থাকলেও, ডক্টর গোলেমিসের নির্বাচন সেই ধারায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রিসের ডিজিটাল গভর্নেন্স মন্ত্রী দিমিত্রিস প্যাপাস্টারজিউ এই অর্জনকে দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য একটি “জাতীয় অনুপ্রেরণার উৎস” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কয়েক বছর আগেও মহাকাশ গবেষণায় গ্রিসের অবস্থান একটি দূরবর্তী স্বপ্ন মনে হলেও বর্তমানে মাইক্রো ও ন্যানো-স্যাটেলাইট খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশিটি তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রমাণ দিচ্ছে।
ইসা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সদস্য দেশগুলোর মধ্য থেকে মহাকাশচারী বাহিনীতে বৈচিত্র্য আনার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, গ্রিস তার পূর্ণ সুযোগ নিতে চায়। প্যাপাস্টারজিউ জানান, এই বিনিয়োগ কেবল বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্য নয়, বরং এর ব্যবহারিক প্রয়োগগুলো নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইতিমধ্যে নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দাবানল ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। গ্রিসের জাতীয় কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি মহাকাশ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যা দেশের অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করবে।


