মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ অঞ্চলে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং প্রচুর পরিমাণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সরু জলপথটি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার উদ্বেগ এবং বীমা খরচ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ায় ট্যাঙ্কার চলাচল যেমন কমেছে, তেমনি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কিছু বড় উৎপাদন কেন্দ্র তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
এই সরবরাহ বিঘ্নের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে বেড়েছে এবং বিশেষ করে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে একটি ভয়াবহ জ্বালানি বিপর্যয় আসন্ন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির সিংহভাগ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই অস্থিরতা সাধারণ পরিবার এবং শিল্পখাতের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা (হিটিং) এবং কলকারখানার উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইউরোপ এই সংকটের মুখে এমন এক সময়ে পড়েছে যখন শীতকাল শেষে তাদের নিজস্ব গ্যাসের মজুদ তুলনামূলকভাবে কম এবং দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পথও সীমিত।
তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তঃসংযুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। মহাদেশের বিভিন্ন দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করার এই উদ্যোগের ফলে এক দেশের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ এখন সহজেই অন্য দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। ইইউ-এর ‘এনার্জি হাইওয়ে’র মতো প্রকল্পের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত বাধাগুলো দূর করে বাজারকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং অভ্যন্তরীণ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে ইউরোপ এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।


