লন্ডনের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী ব্রিটিশ পর্যটক ক্যাথরিন এস্থার গ্যামবোয়া কারউড যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। গত ৩১শে মার্চ সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর থেকেই তার আর কোনো হদিস মিলছে না। আজ বুধবার তার লন্ডনে ফেরার কথা থাকলেও তিনি ফ্লাইটে উপস্থিত ছিলেন না, যা তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ক্যাথরিনের বাবা জানিয়েছেন যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে অবতরণের পর ক্যাথরিনকে এক যুবকের সাথে দেখা করতে দেখা গেছে, যার হাতে একগুচ্ছ ফুল ছিল। পরিবারের ধারণা, ‘ডেভিড’ নামের ওই যুবকের সাথে ক্যাথরিনের আগে যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন পরিচয় হয়ে থাকতে পারে। গত শুক্রবার পর্যন্ত পরিবারের সাথে ক্যাথরিনের খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ থাকলেও যখনই তাকে সরাসরি ফোন করার অনুরোধ জানানো হয়, তখন থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি স্যাক্রামেন্টোর একটি হোস্টেলে আছেন বলে জানালেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে তিনি সেখানে কখনোই পৌঁছাননি।
ক্যাথরিনের ভ্রমণের তালিকায় স্যাক্রামেন্টো, ক্যালাভেরাস বিগ ট্রিস স্টেট পার্ক এবং সান্তা ক্রুজ এলাকাগুলো ছিল। তবে এই এলাকাগুলোর কোথাও তার বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক করতে তার সমস্ত তথ্য একটি বিশেষ ডেটাবেসে আপলোড করা হয়েছে। বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগ এবং যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই রহস্যজনক নিখোঁজ মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ক্যাথরিন একা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু বিমানবন্দরে দেখা করা সেই রহস্যময় যুবক এবং ভুল হোস্টেলের তথ্য প্রদান পুরো ঘটনাটিকে একটি বড় ধরণের ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে। পরিবার এখন ইন্টারপোল এবং স্থানীয় গোয়েন্দাদের সহায়তায় ক্যাথরিনকে উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের ফিরতি ফ্লাইটে তিনি না ফেরায় ঘটনাটি এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে এসেছে।


