জার্মানিতে সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থানের সংকট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন দেশটিতে আসা নতুন অভিবাসীরা। ‘এক্সপার্ট কাউন্সিল অন ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন’ এর ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দেশটির আবাসন বাজারে নতুন অভিবাসী এবং অ-জার্মান নাগরিকদের সাথে পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত বৈষম্য করা হচ্ছে। এর ফলে তাদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমানে পুরো জার্মানিজুড়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য প্রায় ১৪ লক্ষ অ্যাপার্টমেন্টের ঘাটতি রয়েছে। বার্লিনের মতো বড় শহরগুলোতে ১০০ বর্গমিটারের একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া মাসে ৪,০০০ ইউরো (প্রায় ৪,৬৮০ ডলার) ছাড়িয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জার্মানির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮ কোটি ৩৫ লক্ষ। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে ৩৭ লক্ষ, যার প্রায় পুরোটাই অভিবাসন-চালিত হলেও সেই অনুপাতে আবাসন সরবরাহ বাড়েনি। আবাসন না পেয়ে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৩২ হাজারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৮৬ শতাংশ মানুষের কাছেই জার্মানির পাসপোর্ট নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসীরা কেবল কম আয়ের কারণেই নয়, বরং সরাসরি বর্ণবাদের শিকার হচ্ছেন। এর একটি বড় প্রমাণ মিলেছে ২০২৬ সালের শুরুতে, যখন জার্মানির ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিস এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নারীকে ৩,০০০ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই নারী একটি অ্যাপার্টমেন্ট দেখার অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর পাকিস্তানি নাম দেখে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি জার্মান নাম ব্যবহার করে আবেদন করলে সাথে সাথেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পান। এর মাধ্যমে আবাসন বাজারে নামের ভিত্তিতে বৈষম্যের বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়।
এই আবাসন সংকটের কারণে জার্মানির অর্থনীতি ও শিক্ষাখাতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অঞ্চলগুলোতে চাকরি থাকলেও আবাসন না থাকায় আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীরা সেখানে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ অভিবাসী শহর কেন্দ্রিক দরিদ্র এলাকাগুলোতে বাস করায় তাদের সন্তানরা তুলনামূলক দুর্বল অবকাঠামোর স্কুলে পড়তে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই সংকট মোকাবিলায় SVR বাড়ি ভাড়ার প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ‘বেনামী’ বা অ্যানোনিমাস করা এবং সামাজিক আবাসন খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণের সুপারিশ করেছে।
তথ্যসূত্র: ডিডব্লিউ


