বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে জার্মানিতে বড় ধরনের জ্বালানি কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) সকালে বাভারিয়ার সিএসইউ প্রধান মার্কুস স্যোকডার এবং এসপিডি নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস ঘোষণা করেছেন যে তাঁর সরকার আগামী দুই মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেল ও পেট্রোলের ওপর জ্বালানি শুল্ক প্রায় ১৭ সেন্ট (১৯.৯ মার্কিন সেন্ট) হ্রাস করবে।
চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জার্মানির পাম্পগুলোতে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গাড়িচালক ও ব্যবসায়ীদের দ্রুত স্বস্তি দিতে তেল কোম্পানিগুলোর প্রতি এই ছাড়ের সুবিধা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ও সংঘাতই জার্মানির বর্তমান অভ্যন্তরীণ সমস্যার মূল কারণ।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানে শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত কঠোর সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের পারমাণবিক গবেষণার বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ অবরোধ করবে। সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজকে আটকানো হবে, এমনকি যারা ইরানকে শুল্ক দিয়েছে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে তিনি চীনকে হুমকি দিয়ে বলেন যে ইরানকে সাহায্য করলে চীনের ওপর ৫০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক ধার্য করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেছেন যে দীর্ঘ কয়েক দশক পর তারা শান্তির লক্ষ্যে আলোচনায় বসলেও শেষ মুহূর্তে ওয়াশিংটন নতুন শর্ত ও অবরোধ চাপিয়ে দিয়ে আলোচনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী অবরোধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং অর্থনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


