স্পেনের সাথে মেক্সিকোর দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বার্সেলোনায় আয়োজিত ‘ইন ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসি’ সম্মেলনে যোগ দিয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে কোনো ‘কূটনৈতিক সংকট’ নেই। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহাসিক তিক্ততা কাটিয়ে নতুন এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৬শ শতাব্দীতে মেক্সিকো বিজয়ের সময় স্প্যানিশদের করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার দাবি ঘিরে কয়েক বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা চলছিল। এমনকি শিনবাউমের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় স্পেন কোনো প্রতিনিধিও পাঠায়নি। তবে গত মার্চ মাসে স্পেনের রাজা ফিলিপ ষষ্ঠ মেক্সিকো বিজয়ের সময় হওয়া ‘অত্যাচার’ নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য স্বীকৃতি দেওয়ায় সম্পর্কের মোড় ঘুরে যায়। এর পরপরই শিনবাউম আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্পেনের রাজাকে মেক্সিকো সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত এই প্রগতিশীল বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে শিনবাউম ছাড়াও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অংশ নেন। সম্মেলনে কিউবার ভয়াবহ জ্বালানি ও মানবিক সংকট মোকাবেলায় তিন দেশ যৌথভাবে সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমালোচনা করে বলেন, স্থায়ী ৫টি সদস্য রাষ্ট্র এখন ‘যুদ্ধের প্রভুতে’ পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষায় উগ্রবাদ ও স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ওপর সম্মেলনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
যখন বার্সেলোনায় প্রগতিশীল নেতারা সংহতি ও মানবিক সহায়তার কথা বলছেন, ঠিক তখনই ইতালির মিলানে ‘প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ’ জোটের ব্যানারে উগ্র-ডানপন্থীরা বিশাল সমাবেশ করেছে। মিলানের সেই সমাবেশ থেকে অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান এবং ইইউ-এর আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মাত্তেও সালভিনি ও গির্ট ওয়াইল্ডার্সরা। ফলে মেক্সিকো ও স্পেনের এই কূটনৈতিক মেলবন্ধন ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য তৈরি করতে যাচ্ছে।


