ফিলিস্তিন ও লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তীব্র ভাষায় বিদ্ধ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি একে ইইউ-এর ‘নৈতিক পরাজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে যে, ইউরোপীয় নেতারা সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়ে রাজনৈতিক সমীকরণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের দাবিতে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন চাপ তৈরি হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্তত ৭০টি মানবাধিকার গোষ্ঠী, প্রায় ৪০০ জন উর্ধ্বতন কূটনীতিক এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ এরই মধ্যে এই চুক্তি বাতিলের দাবিতে পিটিশন জমা দিয়েছে। ফ্রান্স ও সুইডেন এই দাবির পালে হাওয়া দিয়ে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ ও রপ্তানি সীমিত করতে হবে। ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন, যা ইসরায়েলকে নতুন করে কূটনৈতিক সংকটের মুখে ফেলেছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হয়েও নরওয়ে এই ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইড অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল অবৈধভাবে ফিলিস্তিনিদের কর ও রাজস্বের অর্থ আটকে রেখেছে, যার ফলে সেখানে শিক্ষক ও চিকিৎসকদের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। নরওয়ে অবিলম্বে এই অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। তবে গাজা ও লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলের সঙ্গে ইইউ-এর সহযোগিতা চুক্তি স্থগিতের স্পেন ও আয়ারল্যান্ড-এর প্রস্তাব জার্মানি ‘অনুপযুক্ত’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এসব সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভণ্ড’ এবং ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ১৯৬৭ সালের পর দখলকৃত কোনো এলাকার পণ্য ইইউ-এর বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে না।


