উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত একজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ অপর সদস্যের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে।
ফরাসি বিমান ও মহাকাশ বাহিনী স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইসি লরেনকে জানিয়েছে, নঁসি শহরের উপকণ্ঠে রোজেভিল এলাকায় বিমানঘাঁটির কাছেই যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় আকাশে আগুনের বড় একটি গোলাও দেখতে পান তাঁরা।
ফরাসি বিমানবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল ডেভিড পাপালার্দো ফ্রান্সইনফোকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে অন্তত একজন বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।
তিনি জানান, প্রশিক্ষণ মিশনে থাকা বিমানটির সঙ্গে নঁসি বিমানঘাঁটির রেডিও যোগাযোগ চালু ছিল। কিন্তু একপর্যায়ে বিমানটি রেডিও বার্তার জবাব দেওয়া বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে রাডার থেকেও সেটির সংকেত হারিয়ে যায়।
বিমানটিতে দুজন সামরিক সদস্য ছিলেন। তাঁদের একজন প্রশিক্ষণরত তরুণ বৈমানিক, অন্যজন অভিজ্ঞ অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তা।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কর্নেল পাপালার্দো। তিনি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি।
বিমানটি নঁসি বিমানঘাঁটির ফাইটার স্কোয়াড্রন ২/৩ শ্যাম্পেইনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দুই আসনের মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমানে একজন বৈমানিকের পাশাপাশি একজন অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন।
এলাকার কয়েকটি গ্রামের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা হেনরি লেমোইন ফেসবুকে জানিয়েছেন, ড্রোনের সাহায্যে বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
১৯৯৩ সালে ফরাসি বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয় মিরাজ ২০০০ডি। পরবর্তী সময়ে কসোভো, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া ও আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সামরিক অভিযানে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে ফ্রান্স।
এ মডেলের যুদ্ধবিমান এর আগেও দুর্ঘটনায় পড়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পূর্ব ফ্রান্সে রাতে কম উচ্চতায় ওড়ার সময় একটি মিরাজ ২০০০ডি বিধ্বস্ত হয়। এতে দুই ক্রু সদস্যই নিহত হন।
এরপর ২০২১ সালের জুলাইয়ে নঁসির কাছে একই মডেলের আরেকটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। তবে সে ঘটনায় দুই ক্রু সদস্যই নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
সম্প্রতি মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমানের বহর আধুনিকায়ন ও সংস্কারের কাজ শেষ করেছে ফ্রান্স। ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত এসব যুদ্ধবিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।


