ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত, তবে দেশটি এমন কোনো সংঘাত চায় না বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনালাপের পর পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন।
তবে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, “আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো সংঘাত চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে নিতে পারে।”
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন পুতিন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছি না। কিন্তু ইউরোপ যদি হঠাৎ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা শুরু করে, তাহলে আমরা এখনই প্রস্তুত।”
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পুতিন বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে পশ্চিমারা।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ হলে কোনো বিজয়ী থাকবে না।” ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ কথা ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুতিনের ভাষ্য, ইউরোপীয় নেতারাই তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি এই আলোচনাকে সঠিক পথে এগোনোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গ্রীষ্মে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ন্যাটোর দৃঢ়তা যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়া জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো একটি দেশে সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান চালিয়ে অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলার মাধ্যমে পুতিন উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।
যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ন্যাটোর সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখছে রাশিয়া। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফ চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে রাশিয়া। পুতিন এই সম্প্রসারণকে যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
পুতিন সম্ভবত ইউরোপে ন্যাটোর উপস্থিতি কমানোর দাবি জানাবেন। এর অর্থ হতে পারে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার।
এদিকে, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির শত্রুরা হামলা চালানোর অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।
দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, “সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে আমাদের সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রথমত, এর অর্থ হলো আমাদের সক্ষমতা বাড়ানো, যাতে প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলার আগে দুবার ভাবে। তাতে কাজ না হলে ব্রিটেন যেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”


