ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির আওতায় চালু হলো জিএই ভিসা; ছয় মাসের কম মেয়াদের জন্য রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর সুবিধা।যুক্তরাজ্যে ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ এবং কাজের অভিজ্ঞতা (ওয়ার্ক প্লেসমেন্ট) অর্জনে আগ্রহী বিদেশি স্নাতকদের জন্য একটি বিশেষ ভিসা রুট চালু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
গত ৮ অক্টোবর (২০২৬) প্রকাশিত সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘গভর্নমেন্ট অথরাইজড এক্সচেঞ্জ’ (জিএই) নামের এই ভিসাটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইরাসমাস প্লাস’ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যে আসা শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য চালু করা হয়েছে। তবে আবেদনের পূর্বে সব সম্ভাব্য প্রার্থীকে অবশ্যই ‘ইরারা সিটিজেন সার্ভিসেস’ (IRARA) থেকে স্পনসরশিপের সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
যুক্তরাজ্যের কোনো স্বাগতিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে চান, উচ্চশিক্ষার অংশ হিসেবে কিংবা সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করে ইন্টার্নশিপ করতে চান এমন শিক্ষার্থীদের জন্য জিএই ভিসা উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া যারা টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে চান কিংবা ডক্টরাল পর্যায়ে গবেষণা কাজে যুক্ত হতে চান, তারাও এই ভিসার যোগ্য বিবেচিত হবেন।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই ভিসা প্রযোজ্য হবে, যদি তাঁরা অতিথি হিসেবে বক্তৃতা প্রদান, প্রশিক্ষণ পরিচালনা, কারিগরি কর্মপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়নে সহযোগিতা কিংবা যৌথ অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা অংশীদারিত্বে কাজ করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান।
স্বল্প সময়ের জন্য যারা অবস্থানের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য ‘স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর’ রুটটি একটি বিকল্প হিসেবে বহাল রয়েছে। এই রুটের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা সর্বোচ্চ ছয় মাস অবস্থান করে যেকোনো অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, কর্মশালা বা সম্মেলনে অংশগ্রহণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ (জব শ্যাডোয়িং), শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কিংবা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসার পরিবর্তে সাধারণত ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন’ (ইটিএ) প্রয়োজন হবে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইটিএধারীদেরও স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটরের যাবতীয় শর্ত পূরণ করতে হবে এবং যুক্তরাজ্যের সীমান্তে তাঁদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।
শুধুমাত্র পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে গমনেচ্ছুদের ক্ষেত্রে ‘স্টুডেন্ট ভিসা’ বা ‘চাইল্ড স্টুডেন্ট ভিসা’ প্রয়োজন হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই আবেদনকারীর যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবশ্যই একটি ‘স্টুডেন্ট স্পনসর লাইসেন্স’ থাকতে হবে এবং তাদের পক্ষ থেকে ‘কনফারমেশন অব অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ’ (সিএএস) ইস্যু করতে হবে; যা ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার আগেই নিশ্চিত করা আবশ্যক।
৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্বাধীন স্কুল বা রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত একাডেমিসহ নির্দিষ্ট স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে চাইল্ড স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে। এর মধ্যে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য কাজের সুযোগ থাকা কোর্সগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলে, কাজের সুবিধাযুক্ত কোনো কোর্সে অংশ নিলে কিংবা লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো স্পনসরের অধীনে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে যুক্ত হলে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য যোগ্য হবেন। কোনো কোর্সের মেয়াদ ছয় মাসের কম হলে স্টুডেন্ট ভিসার পরিবর্তে স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর ভিসায় আবেদন করা যাবে।
এছাড়া নির্দেশিকাটিতে ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে ভ্রমণকারী তরুণ প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীদের বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে; যারা যুব বিনিময় কর্মসূচি, নেটওয়ার্কিং সম্মেলন, শিক্ষা সফর কিংবা কোনো প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক সফরের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর হিসেবে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন।
গণমাধ্যম লেজিট.এনজি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সম্প্রতি বড় অঙ্কের ব্যাংক জমা থাকা ভিসা আবেদনকারীদের জন্যও নতুন কিছু শর্ত প্রকাশ করেছে। পৃথক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, যুক্তরাজ্যের পর অন্য একটি দেশও নাইজেরীয় এবং অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগে লেজিট.এনজি জানিয়েছিল যে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন দপ্তরের (ইউকেভিআই) অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই নির্দেশিকায় সরকারের অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার আগে ছয়টি প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়।
ইউকেভিআই জোর দিয়ে জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে আগেভাগেই এসব নথি সংগ্রহ করে রাখা অত্যন্ত জরুরি।


