অবশেষে বিমানযাত্রায় আর বড় ধরনের বিপাকে পড়তে হবে না সন্তানসহ ভ্রমণকারী পরিবারগুলোকে। যুক্তরাজ্যের বিমান ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কঠোর তদন্তের মুখে পড়ে, ছোট বাচ্চাদের সাথে থাকা অভিভাবকদের জন্য নিজেদের আসন নির্ধারণ নীতিতে (সিটিং পলিসি) বড় ধরনের ছাড় ও পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ইউরোপের জনপ্রিয় আইরিশ বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার।
এতোদিন ধরে নাবালক সন্তানদের পাশে বসে ভ্রমণ করার জন্য মা-বাবার কাছ থেকে আসন বুকিংয়ের নামে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল এই বাজেট এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে। কেউ অতিরিক্ত টাকা না দিলে ছোট বাচ্চাদের বাবা-মা থেকে আলাদা আসনে বসিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটত। এই বিষয়ে ভোক্তা অধিকার রক্ষা বিষয়ক ব্রিটিশ সংস্থা ‘হুইচ’ এর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি তদন্ত শুরু করতেই সুর নরম করতে বাধ্য হয় কোম্পানিটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো অতিরিক্ত খরচ বা বাড়তি টাকা ছাড়াই শিশুরা মা-বাবার পাশের আসনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেয়ে যাবে।
তবে রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মিশেল ও’লিয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এই হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, একদম অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁরা এই নিয়ম মেনে নিচ্ছেন। একই সাথে তিনি জানান, যারা এই নিয়মে একদম বিনামূল্যে সন্তানদের পাশের আসন নেবেন, তাদের সাধারণত বিমানের পেছনের সারির আসনগুলোতে বসতে হবে। এছাড়া এই সিট নিশ্চিতের জন্য যাত্রীদের একদম শেষ মুহূর্তের চেক-ইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
রায়ানএয়ারের নিয়মের এই বড় বদলকে স্বাগত জানালেও ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএমএ জানিয়েছে, বিমান সংস্থাটির নতুন এই নীতি পুরোপুরি আইনসম্মত হচ্ছে কি না এবং যাত্রীদের ওপর কোনো লুকানো শর্ত চাপানো হচ্ছে কি না, তা অত্যন্ত কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রবাসে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী কিংবা পরিবার নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা সাধারণ মানুষের অধিকার ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বিমান চলাচল খাতের বিশ্লেষকরা।
