সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ২৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদক পাচারের অভিযোগে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বন্দী এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংঝুতে। এই ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করা হলেও বেইজিং তাতে কর্ণপাত করেনি, যা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম চ্যান থাও ফোমি (৬২), যিনি লাওসে জন্মগ্রহণকারী একজন ফরাসি নাগরিক। ২০০৫ সালে গ্রেপ্তারের পর প্রথমে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে “নতুন চক্রের” উত্থানের অজুহাতে মামলাটি পুনরায় বিচার করা হয়। দ্বিতীয় দফার বিচারে গুয়াংঝৌর একটি আদালত তাঁকে মেথামফেটামিন নামক কৃত্রিম মাদক উৎপাদন ও পাচারের দায়ে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। অভিযোগ ছিল, তিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে টন টন মাদক তৈরির একটি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ছিলেন।

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চ্যানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। ফ্রান্সের দাবি, চূড়ান্ত শুনানিতে চ্যানের আইনজীবী দলকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যা মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। দেশটি “সর্বত্র এবং সকল পরিস্থিতিতে” মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে এর সার্বজনীন বিলোপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং তারা সকল দেশের আসামির সাথেই সমান আচরণ করে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ইসিপিএম’-এর তথ্যমতে, চ্যান থাও ফোমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার ফরাসি নাগরিকের একজন ছিলেন। এদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারনাল তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, চীন বিশ্বে সবথেকে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশ। যদিও বেইজিং এই সংক্রান্ত তথ্যকে ‘রাষ্ট্রীয় গোপন বিষয়’ হিসেবে গণ্য করে এবং কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে চীনের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version