সোমবার, ২৭ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন যুদ্ধংদেহী অবস্থায় রয়েছে। ইরান এই জলপথে মাইন পুঁতছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের দামেও সমপরিমাণ বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।

আমেরিকান গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালীতে বেশ কিছু মাইন স্থাপন করেছে। যদিও এই কাজ এখনো বড় পরিসরে শুরু হয়নি, তবে ইরানের কাছে কয়েকশ মাইন পাতার সক্ষমতা রয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথ বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই পুরো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে ধস নামা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ১৬টি ইরানি জাহাজ ‘নির্মূল’ করেছে যারা মাইন স্থাপনের কাজে নিয়োজিত ছিল। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি মাইন স্থাপন করে থাকে তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন তাদের কাছে এখনো চূড়ান্ত রিপোর্ট নেই, তবুও এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চরম সীমায়।

এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। ইউরোপ ও এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ইরান তার উপকূলীয় মিসাইল ব্যাটারি এবং বিস্ফোরক বোঝাই নৌকার ‘ব্যুহ’ ব্যবহার করে এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version