শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলোতে মুসলিম এবং ইসলাম ধর্মকে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে গভীর ‘কাঠামোগত পক্ষপাত’ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির প্রধান ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত মুসলিম-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রায় ৭০ শতাংশই নেতিবাচক। অলাভজনক সংস্থা ‘সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিং’ প্রায় ৪০ হাজার সংবাদ নিবন্ধ বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রায় অর্ধেক নিবন্ধে উচ্চমাত্রার পক্ষপাত রয়েছে। বিশেষ করে ডানপন্থী আদর্শের অনুসারী সংবাদমাধ্যমগুলো মুসলিমদের বারবার ‘সন্দেহ’ বা ‘হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে ‘জিবি নিউজ’ এবং ‘দ্য স্পেকটেটর’ ম্যাগাজিন। এছাড়া দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য সান এবং ডেইলি মেইলের মতো বড় পত্রিকাগুলোর বিরুদ্ধেও ভুল তথ্য পরিবেশন ও নেতিবাচক শিরোনাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

গবেষকদের মতে, সংবাদমাধ্যমের এই নেতিবাচক প্রচারণা কেবল কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরাসরি ব্রিটিশ মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত এক বছরে যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে গত বছর সাউথপোর্টে একটি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিমদের নিয়ে গুজব ছড়ানোর পর মসজিদ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে লন্ডন শহর ‘শরিয়া আইনে’ চলছে। যদিও ‘মেট্রো’ বা ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর মতো পত্রিকাগুলো এই দাবির সত্যতা যাচাই করে একে ভুল প্রমাণ করেছে, কিন্তু ‘ডেইলি এক্সপ্রেস’-এর মতো কিছু গণমাধ্যম এই ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে প্রচার করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিত্তিহীন দাবিকে এভাবে প্রচার করা ভুল তথ্যকে সমাজে স্বাভাবিক করে তোলে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের ঘৃণ্য প্রচারণা দেশটিকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version