ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জার্নালিজমফান্ড ইউরোপের অর্থায়নে লাটভিয়ার রাজধানী রিগায় শেষ হলো চার সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক ‘মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ট্রেনিং প্রোগ্রাম’। স্টকহোম স্কুল অব ইকোনমিকস ইন রিগার (এসএসই রিগা) উদ্যোগে আয়োজিত এই ফেলোশিপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইউরোপের ২০টিরও বেশি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম পেশাজীবী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অংশ নেন নোটিশিয়াস বাংলার হেড অব মাল্টিমিডিয়া আর এ ইহসান।
আধুনিক সাংবাদিকতার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক স্থায়িত্ব এবং সমাজকেন্দ্রিক সাংবাদিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে প্রথাগত একমুখী তথ্য পরিবেশন থেকে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যম ও সমাজের মধ্যে সক্রিয় অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আধুনিক গণমাধ্যমে ‘আমরা লিখব, আপনারা পড়বেন’ মনোভাবের পরিবর্তে পাঠক ও সংবাদকক্ষের পারস্পরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কীভাবে জনস্বার্থমূলক সাংবাদিকতা টেকসই করা যায়, তা ছিল এই প্রশিক্ষণের মূল প্রতিপাদ্য।
কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষকেরা মেন্টর হিসেবে দিকনির্দেশনা দেন। ইউনেস্কোর ‘স্টোরি-বেসড ইনকোয়ারি’ নীতিমালার লেখক এবং গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক লি হান্টার পেশাদার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘উদারতা’ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই অন্যকে তথ্য বা সময় দেওয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা খাঁটি সম্পর্কই সাংবাদিকদের দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অনুসন্ধানে সহায়তা করে।
অন্যদিকে স্বাধীন গণমাধ্যমের স্থায়িত্ববিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান্তা বারবারার শিক্ষক কেভিন ডেভিস সাংবাদিকতাকে সমাজের সঙ্গে একটি জীবন্ত সম্পর্ক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কোনো সংবাদকক্ষকে টেকসই হতে হলে আগে মানুষের কথা শুনতে হবে এবং তাঁদের প্রয়োজন বুঝতে হবে। এতে পাঠক কেবল সংবাদের ভোক্তা না হয়ে তথ্য প্রদান, মতামত ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সাংবাদিকতার কাজে সরাসরি যুক্ত হতে পারেন।
চার সপ্তাহের এই নিবিড় প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকেরা গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং বিজনেস মডেল নিয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্নালিজমফান্ড ইউরোপের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরিতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
