সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬   |   ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ পদক্ষেপে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, তাদের সরাসরি টেক্সট বার্তা ও ই-মেইলের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে। বার্তাগুলোতে বলা হচ্ছে, দ্রুত দেশ ছেড়ে চলে না গেলে জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হবে। এতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, কোন ধরনের ছাড় বা ব্যতিক্রম থাকবে না।

একটি বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে…

আপনি যদি ভিত্তিহীন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, সেটি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে। আশ্রয় নেওয়ার যেকোনও অনুরোধ খুঁটিনাটি যাচাই করা হবে। মানদণ্ড পূরণ না করলে কোনও সহায়তা মিলবে না।

অন্য বার্তায় বলা হয়েছে…

যদি আপনার যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধ অধিকার না থাকে, তবে অবিলম্বে দেশ ছাড়তে হবে। না গেলে আপনাকে অপসারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, এই মাস সেপ্টেম্বর থেকেই ‘চ্যানেল অভিবাসীদের’ ফেরত পাঠানো শুরু হবে। একইসঙ্গে সরকার শরণার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলনের আবেদনের প্রক্রিয়াও স্থগিত করেছে।

ইতোমধ্যে বিশেষ বিমানে কয়েকজন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ধরনের বার্তায় তাদের মনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে বিশাল আর্থিক ব্যয় ও মানসিক ত্যাগ স্বীকার করে স্বপ্নপূরণের আশায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। হঠাৎ কড়াকড়ি পদক্ষেপে তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একজন শিক্ষার্থী বলেন…

আমরা এখানে কঠোর পরিশ্রম করছি, পড়াশোনা করছি, ব্রিটিশ অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমাদের অবদানকে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

অভিভাবকেরাও চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। যেসব বাবা-মা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবকিছু বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন সন্তানদের শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।

লন্ডনে কর্মরত ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দীন সুমন বলেন..

এই অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। কড়াকড়ি নীতি চালুর পর থেকে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী যারা গ্র্যাজুয়েট ভিসার মাধ্যমে কাজ করে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখছিলেন, তাদের সেই আশা এখন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এতে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা অন্য দেশকে বিকল্প হিসেবে ভাবছেন। এসব দেশে অভিবাসন নীতি তুলনামূলক নমনীয় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নতুন সুযোগ খোঁজার চেষ্টা করছেন।

ফলে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ এখন চরমে পৌঁছেছে। অনেকে ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। দেশে ফিরে যেতে হবে, এমন আশঙ্কা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version