স্পেনে ব্রিটিশ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ছুটির গন্তব্য ৪.১ মাত্রার এক মাঝারি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে।
আজ স্পেনের মুরসিয়া অঞ্চলে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। দেশটির ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইনস্টিটিউট (আইজিএন) জানিয়েছে, আজ বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয় এবং এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। এই ভূমিকম্পের পর জরুরি পরিষেবাগুলোতে অনবরত ফোন আসতে শুরু করেছে।
এর আগে গত শুক্রবার ইতালির নেপলসে ৪.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যাতে বেশ কিছু ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় ২০ জন মানুষ আহত হন। সেই ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় স্পেনে এই ভূকম্পন অনুভূত হলো।
স্পেনের আজকের এই ভূমিকম্পে মুরসিয়ার প্রতিবেশী এলাকা আলিকান্তে ও আলবাসেতে কেঁপে ওঠে। আলিকান্তে ব্রিটিশ পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্র, যেখান থেকে অনেক পর্যটক পাশের শহর বেনিদর্মেও ঘুরতে যান।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল লিব্রিলা শহরে, যার গভীরতা ছিল ভূগর্ভ থেকে প্রায় ৩ মাইল। উৎপত্তিস্থল থেকে মুরসিয়া শহরের দূরত্ব ছিল প্রায় ১৮ মাইল।
জরুরি পরিষেবা ‘১১২’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছে: ‘মুরসিয়া অঞ্চলের ১১২ জরুরি সমন্বয় কেন্দ্র এই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৮০টিরও বেশি ফোন কল পেয়েছে (…) এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।’
স্পেনের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইনস্টিটিউট (আইজিএন) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের আগে গত কয়েক দিনে সেখানে সাতটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং গত এক মাসে এই ভূমিকম্প প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে মোট ২১ বার মৃদু কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। তবে গত ৬ মাসের মধ্যে আজকের এই ভূমিকম্পটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী, যা গত ৩ জুনের ২.৩ মাত্রার কম্পনকে ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে ২০১১ সালে স্পেন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছিল। সে সময় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লরকা শহরে আঘাত হানা ৫.২ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১০ জন নিহত হয়েছিলেন।
আলিকান্তের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওই শহরের বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার পর শত শত মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সারিবদ্ধ গাড়িগুলো টনের পর টন ধ্বংসস্তূপের নিচে পিষ্ট হয়েছিল এবং একটি হাসপাতালও খালি করতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
