শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬   |   ২৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে এমন ধর্মীয় বা ঐতিহ্যবাহী পোশাক (যেমন বুরকা বা নিকাব) জনসমক্ষে নিষিদ্ধ করার একটি আইন নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে ব্যাপক আলোচনা ও অগ্রগতি হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনটিকে ঘিরে পর্তুগিজ রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার মহলে পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আইনটির সপক্ষে থাকা রাজনৈতিক দল ও নীতিনির্ধারকদের দাবি, এই উদ্যোগটি মূলত জননিরাপত্তা রক্ষা এবং পরিচয় শনাক্তকরণের স্বার্থে আনা হয়েছে। এর পেছনে কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ নেই এবং এটি কারও ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। তাদের মূল যুক্তি হলো, জনসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে পরিচয় যাচাই করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, দেশটির বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো—যেমন সোশ্যালিস্ট পার্টি (PS), লিভ্রে (Livre) এবং পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টি (PCP) এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, কাগজে-কলমে এটিকে নিরাপত্তার অজুহাত বলা হলেও, বাস্তবে এই আইন সুনির্দিষ্টভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। এর ফলে পর্তুগালের ধর্মনিরপেক্ষ ও পরমতসহিষ্ণু সমাজে ইসলামবিদ্বেষ এবং নতুন করে সামাজিক বৈষম্যের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিরোধীরা আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, পর্তুগালে বুরকা বা নিকাব পরিধানকারী মানুষের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। ফলে এটি কোনো বাস্তব বা বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট নয়। তাদের মতে, বাস্তব সমস্যার সমাধান করার চেয়ে ডানপন্থী দলগুলো এই আইনের মাধ্যমে সমাজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বিশেষ ‘রাজনৈতিক বার্তা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বিলটি পার্লামেন্টে এনেছে।

বিলটি শেষ পর্যন্ত পাস হবে নাকি সংশোধনীর মুখে পড়বে, তা নিয়ে পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন বেশ উত্তপ্ত।

তথ্যসূত্র: অবজারভাডর 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version