বাংলাদেশ ও লুক্সেমবার্গের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন গতি পেল। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লুক্সেমবার্গে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত খন্দকার মাসুদুল আলম গ্র্যান্ড ডিউকাল প্যালেসে পূর্ণ কূটনৈতিক সৌজন্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্র্যান্ড ডিউক পঞ্চম গিয়োমের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন।
রাষ্ট্রদূত পরিচয়পত্র পেশ করার পর বাংলাদেশ ও লুক্সেমবার্গের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিনিয়োগ, আর্থিক খাত, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন। পাশাপাশি দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি সম্পাদন এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথ সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও তিনি আলোচনায় নিয়ে আসেন।
অনুষ্ঠানে কোর্ট মার্শাল, রয়্যাল হাউসহোল্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী এবং ব্রাসেলসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিচয়পত্র পেশের পর গ্র্যান্ড ডিউক গিয়োম রাষ্ট্রদূত মাসুদুল আলমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা গ্র্যান্ড ডিউকের কাছে পৌঁছে দেন।
আলোচনায় গ্র্যান্ড ডিউক ব্যক্তিগতভাবে স্মরণ করেন তার ও পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পূর্ববর্তী সাক্ষাৎ ও আলাপের স্মৃতি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁর মা গ্র্যান্ড ডাচেস মারিয়া তেরেসার উদ্যোগে শুরু হওয়া ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত মাসুদুল আলম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গ্র্যান্ড ডিউককে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। গ্র্যান্ড ডিউকও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে লুক্সেমবার্গের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ ও লুক্সেমবার্গের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
