শুক্রবার, ২৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঝকঝকে দেশ সাইপ্রাস। পর্যটকদের কাছে দেশটি যতটা আকর্ষণীয়, সেখানে পাড়ি জমানো হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জীবন ততটাই অন্ধকারের চাদরে ঢাকা। উচ্চশিক্ষার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে দেশটিতে গিয়ে এখন চরম বেকারত্ব আর ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। দালালদের প্রলোভন আর এজেন্সির চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করে দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে এক নির্মম বাস্তবতা।

সাইপ্রাসের প্রধান সংকট হলো কাজের অভাব। এটি মূলত পর্যটন-নির্ভর দেশ হওয়ায় সেখানে সারাবছর পর্যাপ্ত কাজ থাকে না। বিশেষ করে যারা কোনো কারিগরি কাজ না শিখে কেবল পড়াশোনার উছিলায় দেশটিতে আসছেন, তারা মাসের পর মাস ঘুরেও একটি নূন্যতম আয়ের কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। শেখ আবদুল আহাদ ও জাহিদ আহমেদের মতো অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, দেশ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, দুই-তিন দিন না খেয়ে থাকার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। কাজ না জানায় এবং ভাষাগত সমস্যার কারণে স্থানীয় নিয়োগকর্তারাও বাংলাদেশি নতুনদের কাজে নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, সাইপ্রাস দুই ভাগে বিভক্ত— তুর্কি সাইপ্রাস ও গ্রিক সাইপ্রাস। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ থেকে আসার সময় জানেনই না তারা কোন অংশে যাচ্ছেন। গ্রিক সাইপ্রাস মূলত ইইউ-র অংশ হলেও এটি শেনজেনভুক্ত না হওয়ায় অন্য দেশে যাওয়ার পথও তাদের জন্য রুদ্ধ। এছাড়া দালালরা ভুয়া ইংরেজি সার্টিফিকেট বানিয়ে কলেজগুলোর টিউশন ফি নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠালেও, সেখানে যাওয়ার পর ক্লাস এবং কাজের সময়সূচীর দ্বন্দ্বে অনেক শিক্ষার্থীই অবৈধ হয়ে পড়ছেন।

কেবল ছাত্ররা নয়, উন্নত জীবনের আশায় যাওয়া বাংলাদেশি ছাত্রীরাও সেখানে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। দেশি এবং বিদেশি স্থানীয় মেয়েদের ভিড়ে রেস্টুরেন্ট বা সুপারশপের কাজ পাওয়া তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নিরুপায় হয়ে কেউ অনলাইনে খাবার বিক্রি করছেন, আবার কেউ অন্যের বাসায় পরিচারিকার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রবীণ প্রবাসী ও কমিউনিটি নেতারা পরামর্শ দিয়েছেন, সাইপ্রাসে আসার আগে যেন অবশ্যই কোনো কারিগরি দক্ষতা (যেমন: শেফ বা সেলাই কাজ) এবং অনলাইন মাধ্যমে সঠিক তথ্য যাচাই করে আসা হয়, অন্যথায় জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে রিক্তহস্তে দেশে ফেরার ঝুঁকি বেড়েই চলবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version