নেটফ্লিক্স, ডিজনি এবং ইউটিউবের মতো বৈশ্বিক স্ট্রিমিং জায়ান্টদের প্রবল জোয়ারে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়ছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি)। তিলে তিলে ধ্বংস হওয়া বা ‘ডেথ বাই আ থাউজেন্ড কাটস’ থেকে জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে এখন দীর্ঘমেয়াদী ও নিরাপদ অর্থায়ন ব্যবস্থার দাবি জোরালো হচ্ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সংস্থাটি এখন তাদের চিরাচরিত লাইসেন্স ফি-নির্ভর কাঠামোর বাইরে নতুন পথ খুঁজছে।
গত ১লা এপ্রিল থেকে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বার্ষিক লাইসেন্স ফি ১৭৪.৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১৮০ পাউন্ড করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ২৩.৮ মিলিয়ন পরিবার থেকে লাইসেন্স ফি বাবদ বিবিসি ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে। এছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অন্যান্য অনুদান থেকে আরও ২ বিলিয়ন পাউন্ড আয় হলেও সংস্থাটির উদ্বেগ কমছে না। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি বছর লাইসেন্স ফি প্রদানকারী পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ করে কমছে। মূলত মানুষের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং লাইসেন্স ফি এড়ানোর প্রবণতাই এর প্রধান কারণ।
ব্রিটিশ মিডিয়া রেগুলেটর অফকম (Ofcom) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে, বর্তমান স্ট্রিমিং যুগে বিবিসি, আইটিভি এবং চ্যানেল ফোর-এর মতো পাবলিক সার্ভিস টেলিভিশনগুলো অনেকটা ‘বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিতে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিবিসি-র মহাপরিচালক টিম ডেভি গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিলেন যে, স্ট্রিমিং সার্ভিসের প্রবল চাপের মধ্যেও বিবিসি তার মৌলিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছানোই এখন সংস্থাটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে বিবিসি তাদের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইপ্লেয়ার-কে আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করার কাজ করছে। লাইসেন্স ফির বিকল্প হিসেবে কোনো স্থায়ী সরকারি বরাদ্দ বা সাবস্ক্রিপশন মডেল কার্যকর করা যায় কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
