বুধবার, ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬   |   ২০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ শেষে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি। প্রায় ৫০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জঙ্গল, বরফে ঢাকা সমুদ্র ও বিভিন্ন দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে সোমবার (২ নভেম্বর) ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হালে শৈশবের বাড়িতে পৌঁছান তিনি।

৫৭ বছর বয়সী বুশবিকে বাড়ির সামনে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানান তার মা অ্যাঞ্জেলা। এ সময় বাড়ির সামনে টাঙানো ছিল ‘স্বাগতম ঘরে, ছেলে’ লেখা একটি ব্যানার। এর আগে শহরের কেন্দ্রস্থলে তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন শত শত মানুষ। তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ পথটুকু হেঁটে বাড়িতে পৌঁছান তিনি।

এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে রসিকতা করে বুশবি বলেন, ‘অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখিত। তাহলে কি এটাই শেষ? কাজ শেষ?’

১৯৯৮ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ চিলির পুন্তা আরেনাস শহর থেকে বিশ্বভ্রমণ শুরু করেন বুশবি। তার এই অভিযান ‘গলিয়াথ এক্সপেডিশন’ নামে পরিচিত। একটি তাঁবু, কয়েক শ ডলার ও একটি সস্তা প্লাস্টিকের ক্যামেরা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল কোনো মোটরচালিত যান ব্যবহার না করে স্থলপথ ও জলপথ পাড়ি দিয়ে নিজের শহর হালে ফিরে আসা।

দীর্ঘ এই যাত্রায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা পেরিয়ে আলাস্কা থেকে রাশিয়ায় পৌঁছান তিনি। এ জন্য অতিক্রম করেন বরফে ঢাকা বেরিং প্রণালি। এরপর মঙ্গোলিয়া ও চীন হয়ে ইউরোপের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সাঁতরে পাড়ি দেন কাস্পিয়ান সাগর।

যাত্রাপথে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বুশবিকে। কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী ঘন জঙ্গল ডারিয়েন গ্যাপ অতিক্রম করেন তিনি। রাশিয়ায় প্রবেশের পর আটকও হয়েছিলেন। এ ছাড়া ভিসা জটিলতা ও অর্থসংকট বারবার তার যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েকজন বড় পৃষ্ঠপোষককে হারান বুশবি। এতে অভিযান শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। শুরুতে ১২ বছরে বিশ্বভ্রমণ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সময় লাগে ২৮ বছর।

গত মাসে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়ে যাত্রার শেষ বড় বাধাটিও অতিক্রম করেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডের মাটি ধরে হালের বাড়ির উদ্দেশে হাঁটা শুরু করেন।

বাড়িতে পৌঁছে বুশবি বলেন, ‘সবাই বলে একটি কাজ সম্পন্ন করতে একটি গ্রামের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাকে এখানে পৌঁছাতে আক্ষরিক অর্থেই পুরো পৃথিবীর সহযোগিতা লেগেছে। অসংখ্য অপরিচিত মানুষের সহায়তা পেয়েছি। ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাষ্ট্র, সবাই পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি একা এই কাজ করিনি। আমার সঙ্গে ছিল বিশাল একটি দল, আর সেই দলের নাম পৃথিবী।’

বুশবির এই দীর্ঘ অভিযানের ওপর একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা সফরেও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version