মঙ্গলবার, ২৪ই মার্চ, ২০২৬   |   ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার জেরে ইউরোপে আবারও নতুন করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল নামতে পারে—এমন আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ, ২০২৬) ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা ২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের পুনরাবৃত্তি হতে দেব না।”

তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, যদিও এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপের অভিমুখে বড় কোনো অভিবাসন প্রবাহ দেখা যায়নি, তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ফন ডেয়ার লাইয়েন আরও জানান, গত এক দশকে ইউরোপ অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং বর্তমানে ইইউ অনেক বেশি শক্তিশালী সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষ সংস্থা এবং ‘অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি’ এর মতো মজবুত আইনি কাঠামো নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত।

এবারের শীর্ষ সম্মেলনে অভিবাসন ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পায় মূলত ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জোরালো আহ্বানের প্রেক্ষিতে। সম্মেলনের আগে ইইউ নেতাদের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তারা সতর্ক করে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কেবল মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা ও সংহতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে জর্জা মেলোনি ব্রাসেলসে ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের সাথে মিলে একটি বিশেষ অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করেন, যেখানে অস্ট্রিয়া, জার্মানি এবং গ্রিসসহ মোট ১৫টি দেশ অংশ নেয়। এই দেশগুলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ‘ইনোভেটিভ’ বা উদ্ভাবনী পদ্ধতি এবং প্রয়োজনে ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ বা জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইইউ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ইউরো পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ফন ডেয়ার লাইয়েন এবং অন্যান্য নেতারা মনে করেন, অভিবাসীদের ইউরোপে আসা ঠেকাতে তাদের নিজ অঞ্চলেই পর্যাপ্ত সহায়তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। তারা একমত হয়েছেন যে, কোনো একক দেশ নয়, বরং সম্মিলিত ইউরোপীয় প্রচেষ্টাই পারে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন রুখতে এবং মহাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version