দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেনজেন অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথে এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছে সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র। নিরাপত্তা ও সীমান্ত যাচাইয়ের কঠোর পরীক্ষা শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিকোসিয়াকে প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তবে ব্রাসেলস সবুজ সংকেত দিলেও, সাইপ্রাসকে পূর্ণ শেনজেন সদস্যপদ দেওয়া হবে কি না—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন ইইউ-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ জুন সংশ্লিষ্ট শেনজেন কমিটির কাছে উপস্থাপিত ইইউ-এর ৬০ পৃষ্ঠার একটি গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সাইপ্রাসকে এই ইতিবাচক রেটিং দেওয়া হয়।
ইইউ-এর এই প্রতিবেদনে দ্বীপ রাষ্ট্র সাইপ্রাসের বিতর্কিত উত্তরাঞ্চলের দখলদারিত্ব (তুর্কি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা) এবং সেখানে থাকা ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোর কারণে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক জটিলতাগুলোকে প্রযুক্তিগত বিষয়ের বাইরে রাখা হয়েছে। ইইউ মনে করে এই জটিলতাগুলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে নিকোসিয়া দৃঢ়ভাবে দাবি করেছে যে, এটি ইউনিয়নের জন্য কোনো অনিয়মিত অভিবাসন বা অন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে না।
খোদ ইইউ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনে সাইপ্রাসের ‘গ্রিন লাইন’ (মুক্ত ও দখলকৃত অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকা) বরাবর বর্তমান তল্লাশি ও নজরদারি ব্যবস্থাকে ‘চমৎকার ও পর্যাপ্ত’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি ইইউ-এর কোনো বাহ্যিক সীমান্ত নয়। তবে শেনজেনে যুক্ত হলে শান্তির হাতিয়ার হিসেবে এই সদস্যপদ কাজ করবে এবং এটি মুক্ত ও অধিকৃত অঞ্চলের মধ্যে নতুন করে কোনো কঠোর সীমান্তের আবহ তৈরি করবে না বলে আশ্বস্ত করেছে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইইউ-এর এই ইতিবাচক মূল্যায়নের পরপরই সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শেনজেন অধিদপ্তরের প্রধান ফিলিপা কারসেরা ক্রিস্টোডুলাইডস একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপি (মেমো) প্রস্তুত করেছেন। তিনি বর্তমান সময়কে সাইপ্রাসের জন্য অত্যন্ত ‘সংকটপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে একটি সুসমর্থিত ও স্থির কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সুপারিশ করেছেন। সাইপ্রাসের লক্ষ্য হলো, এই অর্জিত কারিগরি সাফল্যকে পুঁজি করে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে দ্রুত রাজনৈতিক অনুমোদন আদায় করা।
ভূ-রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল এই অঞ্চলে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাইপ্রাস যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, কূটনৈতিক টেবিলে এখন সেই ইতিবাচক ইতিহাসকেই তুলে ধরছে নিকোসিয়া।
তথ্যসূত্র: সাইপ্রাস সিকিউর
