সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬   |   ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এর মালিক এবং বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার এলন মাস্ক গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মারিন তঁদেলিয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গ্রিনস পার্টির এই নেত্রী বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় ফরাসি কর্তৃপক্ষকে এক্স স্থগিত করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পরই এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

মাস্ক এক্সে লিখেছেন, ‘ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে আমি তাকে বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি!’

মাস্কের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তঁদেলিয়ে। তিনি জবাবে বলেন, ‘ফ্রান্সের একজন বিদেশি বিলিয়নেয়ারের কাছ থেকে দেশপ্রেমের সবক নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, যিনি মনে করেন যে ইউরোপের কোন রাজনৈতিক নেতাদের মুখ বন্ধ করা উচিত তা তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। গণতন্ত্র বিক্রি করার জন্য নয়। এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির কাছেও নয়।’

তঁদেলিয়ে আরও যোগ করেন, ‘গণতন্ত্র কেনার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়ার চেয়ে আমি বরং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য অভিযুক্ত হতে বেশি পছন্দ করব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা এলন মাস্ক নিয়মিতভাবে ইউরোপের রাজনীতিতে নাক গলিয়ে থাকেন এবং উগ্র ডানপন্থী প্রার্থী ও দলগুলোর প্রতি তাঁর সমর্থন জানিয়ে আসছেন—এবং ফ্রান্সও এর ব্যতিক্রম নয়।

গত জুলাই মাসে মাস্ক বলেছিলেন যে উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মারিন ল্য পেন হলেন ‘ফ্রান্সের শেষ আশা’। তবে বিতর্কিত টেসলা ও স্পেসএক্স-এর মালিকের সাথে নিজেদের জড়িয়ে ফেলার ঝুঁকি এড়াতে ল্য পেনের দল ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’ তখন মাস্কের এই সমর্থনকে বেশ হালকাভাবে উপস্থাপন করেছিল।

উগ্র বামপন্থী ফরাসি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশঁ গত বৃহস্পতিবার তঁদেলিয়ের ওপর মাস্কের এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান এবং ফরাসি সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখতে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসলে বিশ্বের সমস্ত ম্যানিপুলেটর বা অপপ্রচারকারীদের জন্য একটি উন্মুক্ত বারে পরিণত হয়েছে।’ তবে তাঁর এই সমালোচনাকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো। 

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছিলেন যে, আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ শনাক্ত ও শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকার তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী গ্যাব্রিয়েল আতাল এবং এদুয়ার ফিলিপ-এর পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী রাফায়েল গ্লুক্সম্যানও জানিয়েছেন যে তাঁরা রাশিয়ার চালানো অপপ্রচার অভিযানের শিকার হয়েছেন।

পলিটিকো

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version