মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে অস্ত্র কেনার হিড়িক পড়েছে, আর এই দৌড়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ইউরোপের দেশগুলো। গত পাঁচ বছরের তুলনায় বর্তমানে ইউরোপে অস্ত্র আমদানির পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই) সোমবার (৯ মার্চ) তাদের নতুন প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। মূলত রাশিয়ার হুমকি এবং যুদ্ধের আশঙ্কায় নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইউরোপের দেশগুলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো যে পরিমাণ অস্ত্র কিনেছে, তা আগের পাঁচ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এর প্রধান কারণ হলো ইউক্রেনকে রাশিয়ার হাত থেকে রক্ষা করা এবং নিজেদের দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এতদিন ইউরোপের দেশগুলো সামরিক খাতে কম খরচ করলেও, এখন তারা আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট অস্ত্র কেনাবেচার ৩৩ শতাংশই হচ্ছে ইউরোপে, যা আগে ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।

অস্ত্র বিক্রির বাজারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র রপ্তানিতে এক নম্বরে রয়েছে। বিশ্বের মোট অস্ত্রের ৪২ শতাংশই এখন আমেরিকা সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রির বাজার ধসে পড়েছে। রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানি ২১ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সহজ কথায়, ইউরোপ এখন নিজেদের রক্ষায় রাশিয়ার চেয়ে চার গুণ এবং চীনের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অস্ত্র মজুদ করছে। আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে পুরো ইউরোপ।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version