সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬   |   ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহুল আলোচিত ও অভিন্ন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ (অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি) আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর হওয়ার পর ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত শুক্রবার থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য রাষ্ট্রে এই নতুন আইনটি পুরোদমে কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ইইউ কাউন্সিলে অনুমোদিত এই প্যাক্টের মাধ্যমে পুরো ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী আশ্রয় ও অভিবাসন নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো। নতুন এই কঠোর আইনের সরাসরি প্রভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো অনিয়মিত বা অবৈধ অভিবাসীদের খুব দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনে তাদের ডিটেনশন সেন্টারে আটক রাখা এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যাবাসন) প্রক্রিয়া পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি সহজ ও ত্বরান্বিত হবে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভূমধ্যসাগর হয়ে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের প্রধান ও অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ হলো ইতালি। এতদিন পর্যন্ত ইতালি সরকার মানবিক কারণ বিবেচনা করে বহু অনিয়মিত অভিবাসীকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিলেও, এই নতুন প্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর সেই মানবিক আশ্রয়ের সুযোগ চরমভাবে সীমিত হয়ে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতালির লিবর্নোর মেয়র লুকা সালভেত্তি এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিশ্চিত করে বলেন, “সমুদ্রপথে আসা অনেককেই আমরা এ যাবৎ আশ্রয় দিয়েছি; লিবর্নো সবসময়ই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু নতুন আন্তর্জাতিক নিয়মের বেড়াজালে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে এবং আমাদের এই মানবিক আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে আসবে।”

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, দালালের হাত ধরে বা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অনিয়মিত উপায়ে ইউরোপে প্রবেশ করা এখন আর কেবল কঠিন নয়, বরং নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য চরম আত্মঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা এখন যেকোনো উপায়ে অবৈধ পথ পরিহার করে সম্পূর্ণ বৈধ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপে অভিবাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, ইতালির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১২ জুন পর্যন্ত (অর্থাৎ বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসেই) জীবন বিপন্ন করে শুধু ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন ৩ হাজার ৮৯৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের ভবিষ্যৎ এখন এই নতুন আইনের কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: সময় সংবাদ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version