ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ডিজিটাল সীমান্ত ব্যবস্থা বা এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম অভিন্ন যমজদের জন্য ব্যাপক ভোগান্তি ও জটিলতা তৈরি করছে। ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার প্রায়শই এক যমজকে অন্যজন বলে ভুল করায় অনেক পরিবার এখন ইউরোপে ভ্রমণ করতে ‘আতঙ্ক’ বোধ করছে।
ভৌত পাসপোর্টের পরিবর্তে বায়োমেট্রিক ডেটাভিত্তিক এই ডিজিটাল ডেটাবেস ব্যবস্থাটি গত এপ্রিল মাসে চালু করা হয়। কিন্তু ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ নিবন্ধনের কারণে বিমানবন্দরগুলোতে ইতিমধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এর ওপর অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটির ব্যর্থতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি এক ব্রিটিশ নারী রোমানিয়ার সীমান্ত পুলিশের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। আমস্টারডাম থেকে তাঁর প্রস্থানের বিষয়টি যথাযথভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় শেনজেন অঞ্চলে অবৈধভাবে থাকার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। অথচ, তদন্তে দেখা যায় ওই নারী কখনো আমস্টারডামেই যাননি, গিয়েছিলেন তাঁর অভিন্ন যমজ বোন।
ইইএস মূলত আঙুলের ছাপ, পাসপোর্টের তথ্য ও মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তবে এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, যমজদের একই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য শুধুমাত্র ফেসিয়াল রিকগনিশনের তথ্যই যথেষ্ট ভুল বার্তা দিতে পারে।
টুইনস ট্রাস্টের প্রচার অভিযান প্রধান ভিক্টোরিয়া মোরেল বলেন, “সব জায়গায় ফেসিয়াল রিকগনিশন চালু হলে কী হবে, তা ভাবতেও ভয় লাগে। বিমানবন্দরে ক্যামেরা প্রায়শই আমার দুই যমজ ছেলেকে একই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে এবং স্ক্যানিং আটকে দেয়। একজন মানুষের কাছে ওরা আলাদা হলেও ক্যামেরার কাছে নয়।”
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এই গ্রীষ্মে ইইএস সীমান্তে অপেক্ষার লাইন ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ইতিমধ্যে স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও ইতালির বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইইউ সীমান্ত সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক উকু সারেকানো জানান, বিমানবন্দরে এই জটিলতা ও বিলম্ব পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে এক থেকে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। তবে তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের আর এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
তথ্যসূত্র:দ্য টেলিগ্রাফ
