শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নবপ্রবর্তিত ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ কার্যকর হওয়ার প্রাথমিক ধাপেই অন্তত ২৭,০০০ যাত্রীকে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে যে পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, গ্রিস এবং নেদারল্যান্ডসের মতো ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে এই প্রত্যাখ্যানের ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বার সীমান্ত পারাপার নিবন্ধিত হয়েছে, যার মধ্যে এই বিশাল সংখ্যক যাত্রী প্রবেশাধিকার পাননি।

মজার বিষয় হলো, এই ২৭,০০০ প্রত্যাখ্যানের মধ্যে মাত্র ৭০০টি ঘটনা সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত ছিল। বাকিদের ক্ষেত্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি কারণ উল্লেখ করেছে কমিশন। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকা বা ত্রুটিপূর্ণ ট্রাভেল ডকুমেন্ট, ভ্রমণের উদ্দেশ্য প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়া এবং সেনজেন এলাকায় অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংগতির অভাব। এ ছাড়া ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত অসংগতি এবং অতীতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের ইতিহাস থাকার কারণেও অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করেছে যে এই ইইএস সিস্টেমটি নিজে কোনো স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নেয় না; এটি কেবল যাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য এবং ভ্রমণের তারিখ রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এই রেকর্ডকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট দেশের বিমানবন্দর বা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে এই নতুন ব্যবস্থার ফলে এখন আগের চেয়ে অনেক সহজেই কোনো যাত্রীর অতীত ইতিহাস শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যা ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version