স্পেনে প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার ঐতিহাসিক সরকারি উদ্যোগ আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই পদক্ষেপকে ‘ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে এটি এখন আইনি লড়াইয়ের দিকে গড়াচ্ছে। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থী দল ‘ভক্স’ এই প্রক্রিয়া ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
স্পেনের বিচার ও সংসদীয় সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী ফেলিক্স বোলানিওস জানিয়েছেন, সরকারের এই মানবিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগটি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ছাড়াও ক্যাথলিক চার্চ ও ভ্যাটিকানের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় যারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করেছেন, অন্তত পাঁচ মাস ধারাবাহিকভাবে বসবাসের প্রমাণ দিতে পারবেন এবং যাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁরাই বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৩৫০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আবেদন চলাকালীন সময়ে প্রার্থীদের অস্থায়ী কাজের অনুমতিও দেওয়া হবে।
সরকার মনে করছে, দেশটির নির্মাণ, কৃষি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং যত্নসেবা খাতে যে বিশাল শ্রমঘাটতি রয়েছে, এই বৈধকরণের ফলে তা পূরণ হবে। অনিয়মিত অভিবাসীরা যখন লুকানো অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত হবেন, তখন তাঁরা কর এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি অবদান রাখতে পারবেন। এতে দেশের পেনশন ব্যবস্থার আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া স্পেনের জন্মহার কমে যাওয়ার ফলে যে জনসংখ্যাগত সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলাতেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিরোধী দল ভক্স ও পিপলস পার্টি (পিপি) এই উদ্যোগকে ‘বৃহৎ বৈধকরণ’ বলে সমালোচনা করছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ অবৈধ অভিবাসনকে আরও উৎসাহিত করবে এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী সানচেস একে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে দেখছেন, যা ইউরোপের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে এক ভিন্নধর্মী ও মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। আপাতত ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গণ্ডি পেরিয়ে এখন স্পেনের উচ্চ আদালতের আইনি রায়ের ওপর নির্ভর করছে।
