পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন শেষে আজ শুক্রবার (১০ই এপ্রিল ২০২৬) থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়ে অ-ইইউ নাগরিকদের জন্য নতুন স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাসের ট্রায়াল পিরিয়ড শেষে আজ থেকে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট স্ট্যাম্প বা সিল মারার চিরাচরিত নিয়ম চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। এর পরিবর্তে এখন থেকে ভ্রমণকারীদের ছবি এবং আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক ডেটার ডিজিটাল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অক্টোবর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থার চূড়ান্ত বাস্তবায়নে পর্তুগালসহ বেশ কিছু দেশে শুরুর দিকে কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে লিসবনের হামবার্তো দেলগাদো বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্তুগাল সরকার গত ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে এই সিস্টেম স্থগিত করলেও আজ থেকে আর পূর্ণ স্থগিতাদেশের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। কমিশনের মুখপাত্র আরিয়ানা পোদেস্তা জানিয়েছেন, সিস্টেমটি ঠিকঠাক কাজ করলে একজন যাত্রীর নিবন্ধন সম্পন্ন করতে মাত্র ৭০ সেকেন্ড সময় লাগে। তবে ভিড় এড়াতে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সামান্য নমনীয়তা প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পর্তুগালে এই নতুন ব্যবস্থা তদারকির দায়িত্বে রয়েছে পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ এবং ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড । ২০২৩ সালে ফরেনার্স অ্যান্ড বর্ডারস সার্ভিস বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে এরাই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে এই ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত করছে। যদিও প্রযুক্তিগত কারণে অপেক্ষার সময় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এটি ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও নির্ভুল ও আধুনিক করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
