সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬   |   ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থের বিনিময়ে সরাসরি নাগরিকত্ব বা ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ বিক্রির লাভজনক কর্মসূচি বন্ধ করতে পূর্ব ক্যারেবিয়ান অঞ্চলের পাঁচটি দেশকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ব্রাসেলস থেকে পাঠানো এক কড়া চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জুনের মধ্যে এই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না করলে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা-মুক্ত যাতায়াতের সুবিধা সম্পূর্ণ বাতিল করা হবে। আলটিমেটাম পাওয়া দেশগুলো হলো—অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস এবং সেন্ট লুসিয়া।

ইইউ দীর্ঘদিন ধরেই এই ‘সিটিজেনশিপ-বাই-ইনভেস্টমেন্ট’ (সিবিআই) কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করায় অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এখানে মূলত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব নয়, বরং ইউরোপে বিনা ভিসায় প্রবেশের অধিকার বিক্রি করা হচ্ছে।

এই দ্বীপরাষ্ট্রগুলো থেকে ন্যূনতম ২ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা) খরচ করে যেকোনো বিদেশি নাগরিক পাসপোর্ট কিনতে পারেন। এই পাসপোর্টের সুবাদে ইউরোপসহ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায়। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি বিদেশি নাগরিককে এভাবে পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে, যাদের সিংহভাগই চীন, সিরিয়া, ইরাক ও নাইজেরিয়ার নাগরিক।

তবে এই ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি বন্ধ হলে ছোট এই দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই পাঁচ দেশের গড় জিডিপির (GDP) প্রায় ৬.৫ শতাংশ এসেছে পাসপোর্ট বিক্রির টাকা থেকে। ২০২২ সালে ডমিনিকার জিডিপির ৩০ শতাংশের বেশি এসেছে এই খাত থেকে।

ইইউ-এর এই চিঠির জবাবে যৌথ কূটনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশগুলো। ৫ দেশের প্রধানমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যারা ইউরোপীয় কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। দেশগুলোর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, বিশ্বজুড়ে অর্ধেকেরও বেশি দেশ ভিন্ন ভিন্ন নামে বিনিয়োগের বিনিময়ে আবাসন বা নাগরিকত্ব দিচ্ছে, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’-এর মতো কর্মসূচি রয়েছে। তাই শুধু তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো অন্যায়।

তথ্যসূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version