কৃষি খাতে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম কমাতে সরকারের ভর্তুকির ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন পর্তুগালের কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, প্রতিবেশী স্পেনে কৃষকদের দেওয়া ভর্তুকির তুলনায় পর্তুগালের প্রস্তাবিত সহায়তা প্রায় তিন গুণ কম।
পর্তুগাল সরকার জানিয়েছে, কৃষিতে ব্যবহৃত ডিজেলের বাড়তি খরচ কমাতে শিগগিরই ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির অর্থমন্ত্রী মানুয়েল কাস্ত্রো আলমেইদা মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কৃষকদের ডিজেল সরবরাহের ব্যয় কমাতে ‘খুব শিগগির’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কৃষিতে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। কারণ ট্রাক্টর ও অন্যান্য কৃষিযন্ত্র চালাতে জ্বালানি অপরিহার্য হওয়ায় কৃষকদের পক্ষে এর ব্যবহার কমানো সম্ভব নয়।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, ডিজেলের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাব পড়ে সুপারমার্কেটের পণ্যের দামে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো একই সঙ্গে জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনুভব করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষি খাতের বাইরে আরও কোনো সহায়তা দেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্ত্রো আলমেইদা বলেন, আপাতত কৃষকদের ডিজেল খরচ কমানোর দিকেই সরকারের নজর।
তবে কৃষক সংগঠনগুলো বলছে, সরকারের এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। জাতীয় কৃষি সমবায় কনফেডারেশনের (কনফাগ্রি) মহাসচিব নুনো সেররা বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানালেও প্রস্তাবিত সহায়তা ‘স্পষ্টতই অপর্যাপ্ত’।
তিনি বলেন, জুন পর্যন্ত চালু থাকা একই শর্তে ভর্তুকি ফিরলে কৃষকেরা প্রতি লিটার ডিজেলে ১০ সেন্ট সাশ্রয় করতে পারবেন। অথচ স্পেনের কৃষকেরা এর প্রায় তিন গুণ সহায়তা পান। এতে স্পেনের কৃষিপণ্যের তুলনায় পর্তুগালের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কনফাগ্রি বলছে, সরকারের সহায়তা শুধু কৃষি ডিজেলের মূল্যছাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। স্পেন ও ফ্রান্সের তুলনায় পর্তুগালে কৃষকদের জন্য জ্বালানি সহায়তার পার্থক্য এখন অন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, যা দেশটির কৃষি ও খাদ্যশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অসন্তোষও বাড়ছে। মঙ্গলবার সিনেসে বিক্ষোভের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গাড়িচালকেরা পাম্পে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকেরা বলছেন, তাঁদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকারকে আরও বড় পরিসরে পদক্ষেপ নিতে হবে।
