২০২৬ সালের বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা নবম বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে ফিনল্যান্ড। ফিনল্যান্ডের পরেই এই তালিকার শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং কোস্টারিকা। বিশেষ করে কোস্টারিকার চতুর্থ স্থানে উঠে আসা ল্যাটিন আমেরিকার কোনো দেশের জন্য এ যাবতকালের সর্বোচ্চ সাফল্য। শীর্ষ ১০-এর বাকি দেশগুলো হলো যথাক্রমে সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ এবং সুইজারল্যান্ড। তবে গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও কোনো ইংরেজিভাষী দেশ শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিতে পারেনি; যেখানে নিউজিল্যান্ড ১১তম, আয়ারল্যান্ড ১৩তম এবং অস্ট্রেলিয়া ১৫তম অবস্থানে রয়েছে।
এবারের প্রতিবেদনে পশ্চিমা দেশগুলোর তরুণ প্রজন্মের মানসিক অবস্থা ও সুখ কমে যাওয়া নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের তরুণরা ১৫ বছর আগের তুলনায় এখন অনেক কম সুখী বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ২৫ বছরের কম বয়সীদের সুখের পরিবর্তনের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড ১৩৬টি দেশের মধ্যে ১২২ থেকে ১৩৩তম অবস্থানে নেমে গেছে। এই নেতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাইবার বুলিং এবং ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাগুলো এখন জনসংখ্যা পর্যায়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
অক্সফোর্ড ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক জান-এমানুয়েল ডি নেভ জানিয়েছেন, প্রতিদিন এক ঘণ্টার কম সময় যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে সুখের মাত্রা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও যারা একেবারেই ব্যবহার করেন না, তারা এর ইতিবাচক দিক থেকে বঞ্চিত হন। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্ল্যাটফর্ম সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ সহজ করে সেগুলো সুখ বৃদ্ধিতে সহায়ক, কিন্তু অ্যালগরিদম নির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে মাথাপিছু জিডিপি, সুস্থ আয়ুষ্কাল, সামাজিক সমর্থন এবং দুর্নীতির ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো দ্রুত উন্নতির মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সুখের ব্যবধান কমিয়ে আনছে।
