বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চলতি বছর ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ দেশ জার্মানিতে আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন ৯২ হাজার ২৭৭ জন নতুন প্রার্থী, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক লাখেরও বেশি কম।

জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম দশ মাসে আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৪ শতাংশ কমেছে।

এ বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট বলেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে কাজ করছে। অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে আমরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও আইনগত সংস্কার চালু করেছি।

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস নেতৃত্বাধীন সরকার গত নির্বাচনের পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেয়। সরকার সীমান্তে কড়া তদারকি, অবৈধ প্রবেশকারীদের তাৎক্ষণিক প্রত্যাবাসন এবং আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই, এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে প্রায় ১৮,৬০০ জনকে সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আশ্রয় আবেদন কমার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এরমধ্যে রয়েছে বলকান দেশগুলোর কড়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, সিরিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কিছুটা ফেরায় সেই দেশ থেকে আগমন হ্রাস এবং ইইউ-র শরণার্থী নীতিতে নতুন চুক্তি ও তথ্য আদানপ্রদান বৃদ্ধি, যা অভিবাসন রুটে বাধা সৃষ্টি করছে।

এক যুগেরও বেশি সময় পর জার্মানিতে বসবাসরত শরণার্থীর সংখ্যাতেও কমতি দেখা দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে যেখানে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ ৫০ হাজার, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখে, অর্থাৎ অন্তত ৫০ হাজারের হ্রাস পেয়েছে।

এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আশ্রয়প্রার্থী, রাজনৈতিক কারণে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থী, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অভিবাসী, এবং ইউক্রেন থেকে আসা শরণার্থীরাও। বামপন্থি দল ডি লিংকে-এর সংসদীয় জিজ্ঞাসার জবাবে সরকার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

জার্মানির বর্তমান কঠোর অভিবাসন নীতি, সীমান্তে নজরদারি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে অনিয়মিত অভিবাসন ও আশ্রয় আবেদন উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে যদি রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতি বড় কোনো পরিবর্তনের মুখে না পড়ে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version