গ্রিসে এক বিমান প্রদর্শনীর সময় ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার অ্যাথেন্সের উত্তরে তানাগ্রা বিমানঘাঁটিতে ‘অ্যাথেন্স ফ্লাইং উইক ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত শো চলাকালীন দ্বি-আসনবিশিষ্ট একটি ফ্যান্টম এফ-৪ জেট বিধ্বস্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
হাজার হাজার দর্শকের সামনে এই প্রদর্শনী চলার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। গ্রিসের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটির তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি হঠাৎ করেই উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং মাটিতে আছড়ে পড়ে। মাটিতে পড়ার সাথে সাথেই এতে একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে।
চলতি বছরের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া ‘অ্যাথেন্স ফ্লাইং উইক’ দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম বিমান প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীতে সাধারণত বিভিন্ন ফরমেশনে উড্ডয়ন, উচ্চ-কঠিন রণকৌশল প্রদর্শন এবং প্যারাশুট জাম্পের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এন. ডেনডিয়াস থেসালোনিকি আন্তর্জাতিক মেলার সফর সংক্ষিপ্ত করে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাথেন্সে ফিরে এসেছেন। এ ছাড়া আয়োজকেরা সপ্তাহান্তের বাকি সব অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেছেন।
ফাইটার জেটটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর তানাগ্রা বিমানঘাঁটিতে তীব্র আগুনের সৃষ্টি হয়, যা দ্রুত চারপাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে ৩টি গ্রাউন্ড টিমের পাশাপাশি ১১৫ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং ৩৬টি গাড়ি নিয়োজিত রয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে ৯টি বিমান ও ৪টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্যে একটি হেলিকপ্টার পুরো অভিযান সমন্বয় করছে।
শনিবার বিকেলে জরুরি নম্বর ১১২-এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের বনের আগুন সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। পরবর্তীতে শনিবার বিকেলের শেষভাগে আগুনের তীব্রতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণে পুলিশ অ্যাথেন্স-লামিয়া জাতীয় মহাসড়কের সার্ভিস রোড এবং ওইনোই এলাকায় ওইনোই প্রাদেশিক সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
