বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রিসে জন্মহার ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সরকারের। শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় দেশটি জনমিতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় ধরনের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবে অভিবাসন নীতি, বিশেষ করে অনিয়মিত প্রবেশ নিয়ে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসছে না প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিসের সরকার।

এথেন্সে ডানপন্থি দৈনিক ’এলেফথেরোস তিপোস’ (Eleftheros Typos আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস জানান, ২০২৬ সালে গ্রিস জনমিতি (জনসংখ্যা সম্পর্কিত পরিসংখ্যানগত বৈশিষ্ট্য ও পরিবর্তন) সমস্যা মোকাবিলায় ১৭৬ কোটি ইউরো বরাদ্দ করতে যাচ্ছে। সন্তানসংখ্যা যত বেশি, পরিবারের কর-ছাড়ও তত বেশি। এমন একটি ধাপভিত্তিক কর সুবিধা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্রিস প্রথমবারের মতো জনমিতি সংকট মোকাবিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলপত্র তৈরি করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জন্মহারে সবচেয়ে নিচের দিকেই গ্রিস। প্রতি ১ হাজার জনে জন্মহার মাত্র ৭ দশমিক ৩, স্পেনে ৬ দশমিক ৯ এবং ইতালিতে ৬ দশমিক ৭।

বিশ্লেষকদের মতে, জন্মহার কমে যাওয়া শুধু অর্থনৈতিক চাপই নয়, পরিবার কাঠামো, সামাজিক মূল্যবোধ এবং শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ, সব ক্ষেত্রেই এ সংকট প্রভাব ফেলছে।

শ্রমবাজারের সংকট পূরণে শরণার্থী ও অভিবাসীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে, যে কেউ নিয়মিত পথে আসবে, শ্রমে যোগ দিতে পারবে এবং গ্রিক সমাজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে, তাদের নিয়ে কোনো ভয় নেই বলেও জানান তিনি।

গ্রিস সম্প্রতি সীমিত সংখ্যক সুদানি শরণার্থীর জন্য কৃষিখাতে কাজের সুযোগ চালু করেছে। তবে সমুদ্রপথে সাম্প্রতিক আগমন বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করা হয়েছে।

অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে গ্রিস যে নতুন আইন করেছে, তা ইউরোপের অন্যতম কঠোর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অবৈধ প্রবেশ বা অবস্থানের জন্য ২ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড, আটক রাখার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪ মাস, যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হবে, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে আটক, এমনকি প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইলেকট্রনিক চিপ (পায়ের ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্র) বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

অক্টোবরের শেষ দিকে গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয় জানায়, শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া কেউ নিজের দেশে ভ্রমণ করলে তার আশ্রয় মর্যাদা বাতিল হবে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য, অভিবাসন ব্যবস্থায় অপব্যবহার বন্ধ করা এবং অনিয়মিত আবেদনের সংখ্যা কমানো।

সরকার শরণার্থীদের সামাজিক সুবিধা ব্যাপকভাবে কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে, আশ্রয় সুবিধার মোট বরাদ্দ ৪০ কোটি ইউরো থেকে কমে ২৮ দশমিক ৮ কোটি ইউরো করা হযেছে। শরণার্থী পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতা কর্মসূচি (Helios Housing Program) -র আবাসন ভর্তুকি পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে এবং গ্রোথফান্ডের সাথে নতুন চুক্তি করে অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিষেবা ব্যয়ে বড় ধরনের সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শরণার্থীদের ভর্তুকি নয়, বরং কাজের সুযোগ ও শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্তিকে সরকার অগ্রাধিকার দিতে চাইছে ।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version