মঙ্গলবার, ২৪ই মার্চ, ২০২৬   |   ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজ্জার্তো বছরের পর বছর ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোপন এবং কৌশলগত তথ্য রাশিয়ার সাথে শেয়ার করেছেন বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইইউ-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোর বিরতির সময় সিজ্জার্তো তার রুশ সমকক্ষ সের্গেই লাভরভকে ফোন করে ভেতরে কী আলোচনা হচ্ছে তা বিস্তারিত ব্রিফ করতেন। এমনকি ইইউ নেতাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, সে বিষয়েও তিনি মস্কোকে আগাম পরামর্শ দিতেন বলে এক বেনামী নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে। সূত্রটি আরও যোগ করেছে, হাঙ্গেরির এই ভূমিকার কারণে কার্যত প্রতিটি ইইউ বৈঠকের টেবিলের পেছনে মস্কোর অদৃশ্য উপস্থিতি ছিল।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইউরোপীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই খবরে বিস্ময় প্রকাশ না করে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন যে, অরবানের লোকজন ইইউ কাউন্সিলের প্রতিটি বিস্তারিত তথ্য মস্কোকে জানায়—এটি আগে থেকেই তাদের সন্দেহের তালিকায় ছিল। একারণেই তিনি বৈঠকে কেবল একান্ত প্রয়োজনটুকুই কথা বলেন বলে জানান। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কিও বিষয়টিকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজ্জার্তো এই অভিযোগকে ‘ফেক নিউজ’ বা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, আগামী ১২ এপ্রিলের সংসদীয় নির্বাচনে হাঙ্গেরিতে একটি ‘যুদ্ধপন্থী পুতুল সরকার’ বসানোর উদ্দেশ্যে বিরোধী দল ‘তিসজা’কে সুবিধা দিতেই এই সাজানো রিপোর্ট করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে আরও একটি ভয়ংকর দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ওপর একটি সাজানো হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল, যার কোড নেম ছিল “গেমচেঞ্জার”। মূলত আসন্ন নির্বাচনে অরবানের প্রতি জনসমর্থন ও সহমর্মিতা বাড়িয়ে তার জয়ের পথ সুগম করতেই এই নাটকীয় অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। উল্লেখ্য, সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী হাঙ্গেরির বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ‘ফিদেজ’ ৩৯% ভোট নিয়ে পিটার মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ‘তিসজা’ (৪৮%) থেকে বেশ পিছিয়ে আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ধরণের গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ইইউ-র সাথে দেশটির সম্পর্ককে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মস্কোর সাথে বুদাপেস্টের এই কথিত ‘ঘনিষ্ঠতা’ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা কাঠামো এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস বড় ধরণের ধাক্কা খাবে। এখন দেখার বিষয়, ১২ এপ্রিলের নির্বাচনে হাঙ্গেরির সাধারণ মানুষ এই বিতর্কিত ইস্যুগুলোকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং ব্যালট বাক্সে তার কী প্রতিফলন ঘটে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version