হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছরের ভিক্টর ওরবান শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে পিটার মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন ‘তিসজা’ পার্টি। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে ১৩৮টি আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে মাগিয়ারের দল। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ফিদেজ পার্টি মাত্র ৫৫টি আসনে জয় পেয়ে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে। জয়ের পর বুদাপেস্টে হাজার হাজার উল্লাসিত সমর্থকের সামনে দেওয়া ভাষণে মাগিয়ার হাঙ্গেরিকে পুনরায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর শক্তিশালী মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দেন।
জয়ের পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলইয়োকসহ ওরবান সরকারের নিয়োগকৃত সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট, সাংবিধানিক আদালত এবং মিডিয়া অথরিটির প্রধানদের ‘ওরবানের পুতুল’ হিসেবে অভিহিত করে মাগিয়ার বলেন, “সম্মানের সাথে বিদায় নিন, অন্যথায় আমাদের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই হবে তার সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাগিয়ার জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়ারশ ও ভিয়েনা সফর শেষে তিনি সরাসরি ব্রাসেলস যাবেন। তার মূল লক্ষ্য হলো ইইউ কর্তৃক স্থগিত রাখা বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো তহবিল হাঙ্গেরির জন্য ছাড়িয়ে আনা। এছাড়া দুর্নীতি দমনে তিনি ‘ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস’-এ যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে মাগিয়ার ভিক্টর ওরবানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশের স্বার্থে কোনো গুরুতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে যেন সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
