২০৩০ সাল নাগাদ ইউরোপের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। আইএমএফ-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ক্রয়ক্ষমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি এর ভিত্তিতে আয়ারল্যান্ড আগামী কয়েক বছরের মধ্যে লুক্সেমবার্গকে ছাড়িয়ে ইউরোপের শীর্ষ ধনী দেশে পরিণত হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিশাল বিনিয়োগ ও আধিপত্যই আয়ারল্যান্ডকে এই অবস্থানে পৌঁছে দেবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। শীর্ষ পাঁচের পরবর্তী অবস্থানে যথাক্রমে থাকবে লুক্সেমবার্গ, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড এবং ডেনমার্ক। তবে আয়ারল্যান্ডের এই অর্থনৈতিক উত্থান নিয়ে কিছুটা বিতর্কও রয়েছে; কারণ এর জিডিপির একটি বড় অংশ বহুজাতিক কোম্পানির আয়ের ওপর নির্ভরশীল, যা সবসময় দেশের প্রকৃত জাতীয় আয়ের সঠিক প্রতিফলন ঘটায় না।
ইউরোপের বড় পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে জার্মানি ১২তম অবস্থানে থেকে নিজের প্রভাব ধরে রাখলেও ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং স্পেন যথাক্রমে ১৫ থেকে ২২তম অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেখাবে সাইপ্রাস, যারা ১৬তম থেকে ১৩তম অবস্থানে উঠে আসবে। অন্যদিকে গ্রিসের জন্য থাকছে দুঃসংবাদ, ২৯তম থেকে ৩২তম অবস্থানে নেমে গিয়ে তারা বড় ধরণের পতনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হয়েও তুরস্কের ক্রয়ক্ষমতা ইইউ-এর তিন পূর্ণ সদস্য— বুলগেরিয়া, লাটভিয়া এবং গ্রিসের চেয়েও ভালো অবস্থানে (৩০তম) থাকবে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা দেশগুলোর জন্য ২০৩০ সালের এই পূর্বাভাস মোটেও সুখকর নয়। ইউক্রেন, কসোভো এবং মলদোভা তালিকার তলানিতে অবস্থান করবে, যাদের ক্রয়ক্ষমতা ইইউ-এর সর্বনিম্ন দেশ গ্রিসের তুলনায় প্রায় অর্ধেক থাকবে। আইএমএফ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৩০ সালে লুক্সেমবার্গের মাথাপিছু আয় যেখানে হবে ১,৫২,৪১৭ ইউরো, সেখানে ইউক্রেনের আয় থাকবে মাত্র ৭,২৭৬ ইউরো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল জিডিপির চেয়ে ক্রয়ক্ষমতা বা পিপিপি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যার ফলে রোমানিয়া, পোল্যান্ড বা তুরস্কের মতো দেশগুলোতে জীবনযাত্রার খরচ কম হওয়ায় তাদের মানুষের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা অনেক উন্নত অর্থনীতির দেশকেও টেক্কা দেবে।


