শনিবার, ২১শে মার্চ, ২০২৬   |   ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

 যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও কঠোর করা হয়েছে। আসন্ন মে মাসে মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের এই পদক্ষেপ বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমানের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের হাউজিং ও লোকাল গভর্নমেন্ট বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিভ রিড পার্লামেন্টে এক বিবৃতির মাধ্যমে জানান যে, কাউন্সিলের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার নিযুক্ত প্রতিনিধিদের (এনভয়) হাতে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন সরকার টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিল। সরকারি মূল্যায়নে দেখা যায়, কাউন্সিলটি আইন অনুযায়ী সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নতুন সংশোধিত নির্দেশনায় সরকারি প্রতিনিধিদের এখন কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজরদারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সেবার কাঠামো পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিনিধি দল প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই তদারকি প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে একজন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞসহ অতিরিক্ত সহকারী প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুৎফুর রহমান, যিনি ২০২২ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘকাল ধরেই বিতর্কিত। ২০১৫ সালে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে আদালতের রায়ে তিনি মেয়র পদ থেকে অপসারিত হয়েছিলেন এবং পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হন। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে রাজনীতিতে ফিরলেও বর্তমানে সরকারি এই কঠোর নজরদারি তাঁর মেয়াদের শেষ সময়ে নতুন সংকট তৈরি করেছে। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই হস্তক্ষেপ কার্যক্রমের যাবতীয় ব্যয় কাউন্সিলকেই বহন করতে হবে এবং মে মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে মেয়র লুৎফুর রহমানের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও কাউন্সিলের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কিছু অগ্রগতি হলেও তা যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়েছে কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। তবে যদি কাউন্সিলের কার্যক্রমে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কিছু দায়িত্ব পুনরায় কাউন্সিলের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version