যুক্তরাজ্যের ‘সাইক্লিং ক্যাপিটাল’ হিসেবে পরিচিত ক্যামব্রিজে প্রথমবারের মতো সাইকেল চালকদের জন্য ঘণ্টায় ১৫ মাইল বা প্রায় ২৪ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর শহরের জনপ্রিয় একটি পথে এই বিধিনিষেধ চালু করেছে কর্তৃপক্ষ।
ক্যামব্রিজশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সাইকেল চালকদের অতিরিক্ত গতির বিষয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও ছোট শিশুদের নিয়ে চলাচলকারী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, শহরের ১৬ মাইল দীর্ঘ ‘গাইডেড বাসওয়ে’-এর পাশে থাকা দুটি যৌথ ব্যবহারের পথে নতুন গতিসীমা কার্যকর হয়েছে। এসব পথে পথচারী, সাইকেল আরোহী ও ঘোড়সওয়ার—সবাই চলাচল করেন। নির্দিষ্ট জায়গায় গতিসীমা শনাক্তকারী যন্ত্র ও সতর্কবার্তা বসানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ ও বাসওয়ে নিরাপত্তা দলের সদস্যরা স্পিড মনিটরিং যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ম ভাঙা সাইকেল আরোহীদের শনাক্ত করবেন। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে সতর্ক করা হতে পারে। তবে একই ব্যক্তি বারবার সীমার বেশি গতিতে সাইকেল চালালে জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অনেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কিছু সাইকেল আরোহী নতুন বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। একজন ব্যঙ্গ করে বলেন, তিনি ঘণ্টায় ১৬ মাইল গতিতে সাইকেল চালাচ্ছেন। অন্য একজন ১৫ মাইলের সীমাকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতেও দেখা গেছে, কিছু সাইকেল আরোহী বাসওয়ের পথে ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল গতিতে চলছেন। এ সময় তাদের কুকুর নিয়ে হাঁটা মানুষ, বয়স্ক পথচারী ও ছোট শিশুদের পাশ কাটিয়ে যেতে দেখা যায়। বিশেষ করে পরিবর্তিত ই-বাইক নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে চালানোর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ক্যামব্রিজের গাইডেড বাসওয়ে ২০১১ সালে চালুর পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। গত বছর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কাউন্সিলকে ৬০ লাখ পাউন্ড জরিমানা দিতে হয়। এ ছাড়া বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জেনিফার টেলর, স্টিভেন মোয়ার ও ক্যাথলিন পিটসের মৃত্যুর ঘটনাও বাসওয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কাউন্সিল জানিয়েছে, নতুন গতিসীমা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুলিশও এলাকাটিতে অতিরিক্ত গতিকে একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়মিত টহল ও আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
