বুধবার, ২৫ই মার্চ, ২০২৬   |   ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের শুরুতেই ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন এক বীভৎস ট্র্যাজেডিতে রূপ নিয়েছে। বছরের প্রথম দুই মাসেই এই বিপজ্জনক রুটে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যে এক হাড়হিম করা চিত্র ফুটে উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই অন্তত ৬৫৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা কমলেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মৃত্যুর হার।

গবেষক ও সীমান্ত সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’-এর মতে, এই গণমৃত্যুর পেছনে রয়েছে কয়েকটি ভয়ংকর কারণ। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ভূমধ্যসাগরে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’ অসংখ্য নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের নিষ্ঠুরতা সীমা ছাড়িয়েছে; তারা অধিক মুনাফার আশায় সমুদ্রযাত্রার অযোগ্য জরাজীর্ণ নৌকায় গাদাগাদি করে অভিবাসীদের তুলে দিচ্ছে। স্থলপথগুলো কঠোরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ এখন দীর্ঘ ও বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে, যেখানে উদ্ধার তৎপরতা প্রায় নেই বললেই চলে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো পারিবারিক পুনর্মিলন এবং স্টাডি ভিসার নিয়ম কঠোর করায় সাধারণ মানুষ মরিয়া হয়ে এই মরণফাঁদে পা দিচ্ছে। এছাড়া তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিতর্কিত চুক্তিগুলো আদতে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যাওয়া অনেক নৌকার খবর কখনোই উপকূলে পৌঁছায় না। ইউরোপের স্বপ্ন এখন হাজারো পরিবারের জন্য এক অন্তহীন শোকের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version