শনিবার, ২৫ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জ্বালানির আকাশছোঁয়া মূল্যের প্রভাবে চরম সংকটে পড়েছে ইউরোপের স্থানীয় বাজারগুলো। একসময় সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য জনপ্রিয় ‘ফার্মার্স মার্কেট’ বা কৃষকের বাজারগুলোতেও এখন ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। বিশেষ করে গত দুই মাসে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাজারের স্টল ভাড়া ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিলেও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের চাপে অনেক বিক্রেতা ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘ডেকো প্রোটেস্ট’-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি সাধারণ ঝুড়ির দাম এখন ২৬১ ইউরোতে (প্রায় ৩৩ হাজার টাকা) পৌঁছেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত চার বছরে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাংসের, যা গড়ে ১৫ ইউরো পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানেই খাদ্যপণ্যের ঝুড়ির দাম ১ ইউরো ৩৭ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতারা এখন হন্যে হয়ে বিকল্প খুঁজলেও সস্তা বাজারের দিন ফুরিয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধির মাঝেও দুধের দাম ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সংকটে পড়েছেন খোদ উৎপাদকেরা। পশুখাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনার খরচ ক্রমাগত বাড়লেও উৎপাদকেরা দুধের সঠিক দাম পাচ্ছেন না। যুদ্ধের আগে থেকেই দুগ্ধ খাতের এই মন্দা শুরু হয়েছিল, যা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আরও ঘনীভূত হয়েছে। ফলে একদিকে বাড়তি দামে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ছেন প্রান্তিক খামারি ও বিক্রেতারা।

তথ্যসূত্র: সিস নোটিসিয়াস 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version