ফ্রান্সে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে শ্রমিকের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা পাওয়ার প্রক্রিয়া দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। কর্মসংস্থান বিষয়ক ফরাসি দপ্তর ‘ফ্রন্স ত্রাভায়’-এর সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই খাতে ওয়েটার, শেফ ও পাচকসহ প্রায় আড়াই লাখ কর্মীর প্রয়োজন হবে। তবে দেশটিতে কার্যকর থাকা কঠোর ‘রোতাইয়ো সার্কুলার’ এবং ভাষাগত দক্ষতার কঠিন শর্তের কারণে বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগকর্তারা দক্ষ কর্মী হারিয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সাবেক ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামানুসারে চালু হওয়া ‘রোতাইয়ো সার্কুলার’ বৈধতা পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করেছে। বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মে বৈধ হতে হলে ফ্রান্সে কমপক্ষে ৭ বছর বসবাসের প্রমাণ এবং ফরাসি ভাষায় ডিপ্লোমা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পেশা বিষয়ক সংগঠন ‘ইউএমআইএইচ’-এর মতে, একজন শ্রমিকের পক্ষে ৪০০ থেকে ৮০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিয়ে এই ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বিশ্বস্ত ও দক্ষ কর্মীদের চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে অনেক অভিবাসী দেশ ছাড়ার নির্দেশ (ওকিউটিএফ) পাচ্ছেন। নিয়োগকর্তারা একে ‘দ্বিগুণ শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলছেন, এর ফলে অনেক কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসায়িক দলগুলো ভেঙে যাচ্ছে।
যদিও ‘সংকটাপন্ন পেশার’ তালিকায় বসবাসের সময়সীমা ৭ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করা হয়েছে, তবুও এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক বছরে মাত্র এক হাজার ৬৫৫ জন এই বিশেষ ব্যবস্থায় বৈধতা পেয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। খোদ ফরাসি প্রশাসনও এই ধীরগতির প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। রেস্তোরাঁ মালিকরা দাবি জানিয়েছেন, শিল্পের চাকা সচল রাখতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের নিয়মগুলো আরও সহজ করা প্রয়োজন। অন্যথায় বিশাল এই কর্মী চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না, যা ফরাসি অর্থনীতির একটি বড় স্তম্ভকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস বাংলা
