নেদারল্যান্ডসে গাড়ি চালকদের জন্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা বা ফাইনের (Traffic Fines) খরচ আরও বাড়ানোর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাচ সরকার। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও কালেকশন এজেন্সিগুলোর তীব্র আপত্তি এবং জরিমানা কমানোর পরামর্শ পুরোপুরি উপেক্ষা করেই আগামী ২০২৭ সাল থেকে এই বর্ধিত জরিমানার নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। ডাচ সংবাদমাধ্যম ‘ডি টেলেগ্রাফ’-এর বরাতে জানা গেছে, সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাফিক জরিমানার খরচ দেশের বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে প্রায় ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের জন্য মুদ্রাস্ফীতির কারণে জরিমানা বৃদ্ধি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও ২০২৭ সাল থেকে এই পকেট কাটার নিয়ম পুরোদমে বহাল হচ্ছে।
নতুন এই মুদ্রাস্ফীতিজনিত মূল্যবৃদ্ধির ফলে নেদারল্যান্ডসের সড়কগুলোতে সাধারণ ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গের খরচও একলাফে অনেক বেড়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো চালক যদি ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি অমান্য করে গাড়ি চালান, তবে তাঁর বর্তমান ৩২০ ইউরোর জরিমানাটি বেড়ে দাঁড়াবে ৩২৮ ইউরোরও বেশি। আর এই মূল জরিমানার সাথে অতিরিক্ত ৯ ইউরো প্রশাসনিক ফি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির খোদ পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিস এবং সেন্ট্রাল জুডিশিয়াল কালেকশন এজেন্সি। ডাচ বিশেষজ্ঞদের মতে, নেদারল্যান্ডসে সাধারণ ট্রাফিক আইন ভঙ্গের এই বিশাল জরিমানা অনেক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের জন্য নির্ধারিত জরিমানার চেয়েও আনুপাতিক হারে অনেক বেশি এবং চরম অসঙ্গতিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, এই বিপুল অঙ্কের জরিমানা অনেক সময় প্রান্তিক বা কম আয়ের সাধারণ মানুষের পক্ষে পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা এক দীর্ঘস্থায়ী ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। এর ওপর নেদারল্যান্ডসে রয়েছে অত্যন্ত কঠোর সারচার্জ ব্যবস্থা; যেখানে ট্রাফিক জরিমানা নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ না করলে প্রথম দফায় ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা যুক্ত হয়। এর ফলে একটি সাধারণ ১০০ ইউরোর জরিমানা মুহূর্তের মধ্যেই ৩০০ ইউরোতে রূপ নেয়। এই অমানবিক সারচার্জ ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে বর্তমানে খোদ ডাচ সুপ্রিম কোর্টও গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের এতসব যৌক্তিক আপত্তি ও জরিমানা ৩০ শতাংশ কমানোর সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ডাচ ক্যাবিনেট এই সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও নড়ছে না মূলত বিশাল রাজস্ব ঘাটতির ভয়ে। ডাচ সরকারের
