বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সরকার ২০২৫ সালের জন্য যে ‘কঠোর অভিবাসন কৌশল’ গ্রহণ করেছে, তা কেবল পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং পুরো ইউরোপের আইনি কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

পোল্যান্ড সরকার একটি বিতর্কিত আইন পাস করেছে যার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, রাজনৈতিক আশ্রয় স্থগিত। নতুন আইনে বেলারুশ সীমান্ত দিয়ে আসা ব্যক্তিদের জন্য সাময়িকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার অধিকার স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তি হিসেবে পোল্যান্ড দাবি করছে, এটি সাধারণ অভিবাসন নয়, এটি রাশিয়া ও বেলারুশ পরিচালিত একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’। যেখানে অভিবাসীদের জোর করে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে পোল্যান্ডকে অস্থিতিশীল করতে। এছাড়া আইনটিতে বর্ডার গার্ড বা সীমান্ত রক্ষীবাহিনী যদি আত্মরক্ষার্থে বা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে, তবে তাদের আইনি সুরক্ষা বা বিশেষ ‘ইমিউনিটি’ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

পোল্যান্ডের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র এবং কিছুটা নমনীয়, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ইউরোপীয় কমিশন প্রথমে জানিয়েছিল যে…

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক এবং ইইউ আইন (যেমন: জেনেভা কনভেনশন) মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যেখানে আশ্রয় চাওয়া একটি মৌলিক অধিকার।

প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ব্রাসেলসকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, পোল্যান্ডের পরিস্থিতি সাধারণ অভিবাসন সংকটের চেয়ে ভিন্ন। ফলে ২০২৪-২৫ সালের ইইউ সম্মেলনে পোল্যান্ডকে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে নিজস্ব সীমান্ত রক্ষার অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ইইউ-এর নতুন অভিবাসন চুক্তিতে বলা হয়েছিল, প্রতিটি দেশকেও নির্দিষ্ট সংখ্যক অভিবাসী নিতে হবে অথবা অর্থ দিতে হবে। পোল্যান্ড সফলভাবে এই বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ পোল্যান্ডের এই আইনকে তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মূল আপত্তির জায়গাগুলো হলো…

এটি মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও প্রকৃত রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আসা মানুষকে বেলারুশের জঙ্গলে মানবেতর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া তারা মনে করেন, এ আইনটি ইউরোপের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

এই আইনের ফলে ইউরোপের রাজনীতিতে একটি ধারাবাহিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পোল্যান্ডের কঠোরতা দেখে জার্মানি এবং অস্ট্রিয়াও তাদের সীমান্তে চেকিং বাড়িয়েছে এবং অভিবাসন আইন আরও শক্ত করার পথে হাঁটছে। এক সময় হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান অভিবাসন নিয়ে একা লড়াই করতেন, কিন্তু এখন ডোনাল্ড টাস্কের মতো একজন ইইউ-পন্থী নেতাও একই পথে হাঁটায় ইউরোপের অভিবাসন রাজনীতি ডানপন্থার দিকে আরও ঝুঁকে পড়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version