তীব্র ও রেকর্ডভাঙা দাবদাহে পুড়ছে সমগ্র ইউরোপ। সোমবার ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রার পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। এই চরম আবহাওয়ার কারণে ফ্রান্সে তপ্ত গাড়িতে আটকে মারা যাওয়া দুই শিশুসহ এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফ্রান্সে অনেক স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী এ সপ্তাহে যুক্তরাজ্যেও জুন মাসের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে তাপমাত্রা।
দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের কার্পেন্ট্রাসের এক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, পার্ক করা একটি তপ্ত গাড়ির ভেতরে অবচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুকে উদ্ধারের পর শত চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দাবদাহের কারণে গত সপ্তাহান্তে বোর্দো অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী তিন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিও মারা গেছেন। এ ছাড়া গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নামার পর গত রবিবার ও সোমবারের মধ্যে অন্তত ১৩ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। গত বছর ফ্রান্সে দাবদাহের সময় পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার ১৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফরাসি সিভিল সেফটি সার্ভিসের মুখপাত্র জেরোম বুল্যাঙ্গার সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘শুধুমাত্র তদারকি করা হয় বা লাইফগার্ড আছে এমন স্থানেই সাঁতার কাটুন।’
ইউরোপজুড়ে জেঁকে বসা এই তীব্র দাবদাহটি মূলত ‘ওমেগা ব্লক’ নামে এক বিশেষ আবহাওয়াজনিত কারণে তৈরি হয়েছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, গ্রিক অক্ষর ওমেগা (Ω)-এর আকৃতির মতো হওয়ায় এই দাবদাহের এমন নামকরণ করা হয়েছে, যার মাঝখানে গরম বাতাস এবং দুই পাশে তুলনামূলক শীতল বাতাস থাকে। এটি উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে সরাসরি তীব্র গরম বাতাস টেনে আনছে এবং সে কারণেই আমরা এই তীব্র গরমের মুখোমুখি হচ্ছি। এই সিস্টেমটি অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে, যার অর্থ হলো স্বস্তি পাওয়ার মতো কোনো বাতাস বা হাওয়া এই মুহূর্তে নেই। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবদাহ ও ঝড় আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থার মুখপাত্র রুবেন দেল ক্যাম্পো বলেন, ‘আমরা বছরের এই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা দেখতে পাচ্ছি, এমনকি উত্তরের কিছু এলাকায় এটি গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১০ ডিগ্রিরও বেশি।’ ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়াইন উৎপাদনকারী অঞ্চল বোর্দোর তাপমাত্রা রেকর্ড ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে, যা গত আগস্টের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। মধ্য ফ্রান্সে পোইতিয়েরসের তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ১৯৪৭ সালের পর সর্বোচ্চ। প্যারিসের তাপমাত্রা জুন মাসের জন্য সর্বোচ্চ ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চার দিনের এই দাবদাহে কিছু কিছু স্থানের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের জুনের রেকর্ড ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অনায়াসে ছাড়িয়ে যাবে। লন্ডনের এক বাসিন্দা লুইস জেনিংস বলেন, ‘৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা সত্যিই অসহ্যকর হতে যাচ্ছে।’ তীব্র দাবদাহের কারণে সোমবার ইতালির ১২টি শহরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। তুরিন শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলা করতে জেনারেটর এবং কর্মীদের কাজের সময়সূচি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ছাদের কার্নিশে বাসা তৈরি করা চড়ুই, সোয়ালো এবং দোয়েলের মতো পাখিরা চরম বিপদে পড়েছে। বেলজিয়ামের একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা রোমাইন দে জেগেরে বলেন, ছাদের তাপমাত্রা অনেক সময় ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ফলে পাখিরা বাসার ভেতরে সেদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার চেয়ে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়াকে বেছে নিচ্ছে। গত তিন দিনে তার আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫০টি বন্যপ্রাণী নিয়ে আসা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য বিসনেস স্ট্যান্ডার্ড
তীব্র ও রেকর্ডভাঙা দাবদাহে পুড়ছে সমগ্র ইউরোপ। সোমবার ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রার পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। এই চরম আবহাওয়ার কারণে ফ্রান্সে তপ্ত গাড়িতে আটকে মারা যাওয়া দুই শিশুসহ এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফ্রান্সে অনেক স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী এ সপ্তাহে যুক্তরাজ্যেও জুন মাসের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে তাপমাত্রা।
দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের কার্পেন্ট্রাসের এক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, পার্ক করা একটি তপ্ত গাড়ির ভেতরে অবচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুকে উদ্ধারের পর শত চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দাবদাহের কারণে গত সপ্তাহান্তে বোর্দো অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী তিন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিও মারা গেছেন। এ ছাড়া গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নামার পর গত রবিবার ও সোমবারের মধ্যে অন্তত ১৩ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। গত বছর ফ্রান্সে দাবদাহের সময় পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার ১৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফরাসি সিভিল সেফটি সার্ভিসের মুখপাত্র জেরোম বুল্যাঙ্গার সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘শুধুমাত্র তদারকি করা হয় বা লাইফগার্ড আছে এমন স্থানেই সাঁতার কাটুন।’
ইউরোপজুড়ে জেঁকে বসা এই তীব্র দাবদাহটি মূলত ‘ওমেগা ব্লক’ নামে এক বিশেষ আবহাওয়াজনিত কারণে তৈরি হয়েছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, গ্রিক অক্ষর ওমেগা (Ω)-এর আকৃতির মতো হওয়ায় এই দাবদাহের এমন নামকরণ করা হয়েছে, যার মাঝখানে গরম বাতাস এবং দুই পাশে তুলনামূলক শীতল বাতাস থাকে। এটি উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে সরাসরি তীব্র গরম বাতাস টেনে আনছে এবং সে কারণেই আমরা এই তীব্র গরমের মুখোমুখি হচ্ছি। এই সিস্টেমটি অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে, যার অর্থ হলো স্বস্তি পাওয়ার মতো কোনো বাতাস বা হাওয়া এই মুহূর্তে নেই। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবদাহ ও ঝড় আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থার মুখপাত্র রুবেন দেল ক্যাম্পো বলেন, ‘আমরা বছরের এই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা দেখতে পাচ্ছি, এমনকি উত্তরের কিছু এলাকায় এটি গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১০ ডিগ্রিরও বেশি।’ ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়াইন উৎপাদনকারী অঞ্চল বোর্দোর তাপমাত্রা রেকর্ড ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে, যা গত আগস্টের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। মধ্য ফ্রান্সে পোইতিয়েরসের তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ১৯৪৭ সালের পর সর্বোচ্চ। প্যারিসের তাপমাত্রা জুন মাসের জন্য সর্বোচ্চ ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চার দিনের এই দাবদাহে কিছু কিছু স্থানের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের জুনের রেকর্ড ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অনায়াসে ছাড়িয়ে যাবে। লন্ডনের এক বাসিন্দা লুইস জেনিংস বলেন, ‘৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা সত্যিই অসহ্যকর হতে যাচ্ছে।’ তীব্র দাবদাহের কারণে সোমবার ইতালির ১২টি শহরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। তুরিন শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলা করতে জেনারেটর এবং কর্মীদের কাজের সময়সূচি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ছাদের কার্নিশে বাসা তৈরি করা চড়ুই, সোয়ালো এবং দোয়েলের মতো পাখিরা চরম বিপদে পড়েছে। বেলজিয়ামের একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা রোমাইন দে জেগেরে বলেন, ছাদের তাপমাত্রা অনেক সময় ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ফলে পাখিরা বাসার ভেতরে সেদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার চেয়ে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়াকে বেছে নিচ্ছে। গত তিন দিনে তার আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫০টি বন্যপ্রাণী নিয়ে আসা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য বিসনেস স্ট্যান্ডার্ড
