বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে নতুন বাজেট কাটছাঁটের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারও দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ চলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জন প্যারিসে। বর্তমানে ৩২ জন হেফাজতে রয়েছেন। এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

দেশজুড়ে প্রায় ৪৭৬টি বিক্ষোভে আনুমানিক ৮ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্সেইলে স্থানীয় পুলিশ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে, যদিও আয়োজনকারীরা সংখ্যাটি অনেক বেশি দাবি করেছেন।

ন্যান্টস ও লিওনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে; পুলিশ টিয়ার শেল ব্যবহার করেছে এবং তিনজন আহত হয়েছেন।

পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। প্যারিসে মেট্রো ও শহরতলি ট্রেন সীমিতভাবে চলছে। রেলওয়ে কোম্পানি এসএনসিএফ জানিয়েছে, উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের ৯০% চলাচল করছে, তবে আঞ্চলিক টিইআর লাইন কেবল ৬০% সক্ষমতায় চলছে।

শিক্ষা খাতেও ধর্মঘটের প্রভাব স্পষ্ট। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষক ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। স্নেস-এফএসইউ ইউনিয়ন জানিয়েছে, ৪৫% শিক্ষক ধর্মঘটে যুক্ত ছিলেন এবং তারা খারাপ কর্মপরিবেশ, কম বেতন ও ‘সার্বজনীন শিক্ষার ধ্বংসপ্রক্রিয়া’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর নিয়োগের এক সপ্তাহের মধ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি ইতিমধ্যেই দুইটি সরকারি ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার ঘোষণা দিয়েছেন, তবে বেকার ভাতা ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ বৃদ্ধির মতো বিতর্কিত প্রস্তাব এখনও বহাল রয়েছে।

সরকার দেশজুড়ে ৮০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েন করেছে, এর মধ্যে প্যারিসে ৫ হাজার। প্যারিস পুলিশের প্রধান লরাঁ নুয়েজ সতর্ক করেছেন, বিক্ষোভে সহিংস বামপন্থী প্রবেশের সম্ভাবনা আছে। ব্যবসায়ীদের জানালা সুরক্ষিত করতে ও দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

সাধারণ শ্রমিক কংফেডারেশনের (সিজিটি) নেতা সোফি বিনে সরকারের কঠোর নিরাপত্তা নীতির সমালোচনা করেছেন এবং সকলকে ব্যাপক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। করেছেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version