লুক্সেমবার্গ সরকার নন-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নাগরিকদের জন্য থাকা বিনিয়োগভিত্তিক রেসিডেন্স পারমিট বা ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রকল্প বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রকল্পে বিদেশীরা লুক্সেমবার্গে কোনো ব্যবসায় ৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করলে তিন বছরের জন্য থাকার অনুমতি পেতেন।
গৃহমন্ত্রক মন্ত্রী লেঁন গ্লোডেন গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগে সংসদে একটি খসড়া আইন পেশ করেছেন, যা প্রকল্পটি বাতিল করার পথ পরিষ্কার করে। বর্তমানে বিলটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার জন্য নেওয়া হবে।
বছরের শুরুতে লুক্সেমবার্গ টাইমস জানিয়েছিল যে সরকার প্রকল্পটি বন্ধ করার বিষয়ে ভাবছে। গৃহমন্ত্রকের এক মুখপাত্র তখন বলেছিলেন, তারা ‘ইনভেস্টর রেসিডেন্স পারমিট স্কিমের কার্যকারিতা যাচাই’ করছে।
কম আগ্রহ, সীমিত ফলাফল
২০১৭ সালে চালু হওয়ার পর প্রকল্পে আগ্রহ খুব কম ছিল। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ‘ইনভেস্টর স্কিমের সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম এবং নতুন ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী এটি চালানো প্রশাসনিকভাবে জটিল। এছাড়াও আবেদনকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল করা প্রয়োজন।’
আইন প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে মাত্র নয়জন তৃতীয় দেশের নাগরিক এই অনুমতি পেয়েছেন। প্রথম বছরে একজন অস্ট্রেলিয়ান ও পাঁচ চীনা বিনিয়োগকারী পারমিট পেয়েছিলেন, ২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত আরও তিনজন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ছয়টি আবেদন এসেছে, যার মধ্যে চারটি বাতিল হয়েছে।
সিএসভি দলীয় সংসদ সদস্য লরঁ মোসার বলছেন…
উচ্চ সম্পদশালী বিদেশীদের আকৃষ্ট করতে নতুন উপায় প্রয়োজন। ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহজলভ্য করা এবং কোম্পানি তৈরির প্রক্রিয়া সরল করা জরুরি।
আগের জোট সরকার দুই বছর আগে বলেছিল, তারা প্রকল্প বন্ধের পরিকল্পনা করছে না। তবে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ইউরোপীয় কমিশন গোল্ডেন ভিসা বন্ধ করার আহ্বান জানায়। কমিশন বলেছিল, এই ধরনের ভিসা রাশিয়ান বা বেলারুশিয়ান নাগরিকদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং নিরাপত্তা, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ায়।
বিনিয়োগের বিকল্প পথ
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, যারা লুক্সেমবার্গে বিনিয়োগ করতে চায় তারা ‘সেল্ফ-এমপ্লয়েড’ রেসিডেন্স পারমিটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে। রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ অনুমোদিত ছিল না, কিন্তু আবেদনকারীর মালিকানাধীন ফান্ড বা কোম্পানির মাধ্যমে বিনিয়োগ সম্ভব ছিল।
মধ্যম আকারের প্রকল্পে অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয়, বড় প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয় তদারকি করত। পারমিট তিন বছরের জন্য বৈধ, ১২ মাস পর পুনর্মূল্যায়ন হয় এবং প্রয়োজনে বাতিল করা যেতে পারে। পাঁচ বছর পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়, যদি আবেদনকারী দেশের ভাষার মৌলিক জ্ঞান রাখে এবং নাগরিকত্ব কোর্স সম্পন্ন করে।
২০১৮ সালের ইউরোপীয় কমিশনের রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের বড় ফাঁক রয়েছে। কোনো আবেদন সীমা নেই, সফল আবেদনকারীর নাম প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই এবং অর্থনৈতিক প্রভাব পরিমাপ করার কোনো সিস্টেম নেই।
